বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ১২:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুরে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ  ব্রেকিং নিউজ বাংলাদেশে করোনা আপডেট আজ বুধবার,  আজকে সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নে একটি করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উখিয়া উপজেলা যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে মাদকাসক্ত মুজিব, ইয়াবা কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ করে খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃৃত্যু: সনাক্ত ৭৪৫ জন। জয়পুরহাটে সন্তানের খাবারের জন্য মা সন্তানকে দত্তক দিতে চায় চিত্র নায়িকা পরি মনির বাসায় RAB এর অভিযান। পরিবেশের বিপর্যয়: ৮ বছরের বাগান, ১০ লাখ লেবুসহ ৫ হাজার গাছ কেটে দিল বন বিভাগ ! দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া মহিষ বিক্রির টাকাসহ আটক ৩ ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলমান লকডাউন বৃদ্ধি

হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহারকে কেন্দ্র করে দু’পক্ষের উত্তেজনা !! বিহার ভাংচুর ধাতুঃস্বর্ণমুর্তি সহ মালামাল লুট !!

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৭ জুলাই, ২০২০, ৫.১৯ পিএম
  • ১০৮ বার পঠিত

এম রায়হান চৌধুুরী ,চকরিয়া :
কক্সবাজারের চকরিয়ায় দেড়শত বছরের প্রাচীনতম হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার সংস্কার নির্মানের নামে পুরাতন বিহার ভাংচুরকে কেন্দ্র করে বৌদ্ধধর্মলম্বী রাখাইনদের দু’পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। প্রশাসনের অনুমতি ছাড়া বৌদ্ধ বিহারটি স্থানীয় রাখাইন পাড়ার মং ইয়াই প্রকাশ মং মাস্টার নামের এক রাখাইন ও তার ছেলে সেন জু’র নেতৃত্বে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী বাহিনী নিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে ভাংচুর চালিয়ে বিহারের স্বর্ণ ও বৌদ্ধ ধাতুর মূল্যমান মুর্তি লুট করে নিয়ে গেছে বলে অভিযোগ করেছেন রাখাইন সম্প্রদায়ের লোকজন। বিহার ভাংচুর করে মালামাল লুট করে নিয়ে যাওয়ার সময় বাধা দিতে গেলে বিহারের অধ্যক্ষ সুমনা ভিক্ষুকে বিহার থেকে বের করে তাড়িয়ে দেয়। এই ঘটনাটি তাদের সম্প্রদায়ের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ শুরু করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের রাখাইন নারী-পুরুষ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে রাখাইন সম্প্রদায়ের মাঝে শুরু হয় পক্ষ বিপক্ষের দু’পক্ষের মধ্যে চরম উত্তেজনা।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে রাখতে ঘটনাস্থলে হারবাং পুলিশ ফাঁড়ির এস আই পারসিত চাকমার নেতৃত্বে একদল পুলিশ অবস্থান করেন। খবর পেয়ে দুপুরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ ও চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। প্রশাসন পরর্বতী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বৌদ্ধ বিহারের কার্যক্রম বহাল থাকবে বলে জানা গেছে। বর্তমানে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে ।
বৃহস্পতিবার (১৬জুলাই) সকাল ১০টার দিকে উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের রাখাইন পাড়াস্থ প্রাচীনতম গুনামেজু বৌদ্ধ বিহারে ভাংচুর ও লুটপাটের ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার হারবাং ইউনিয়নের রাখাইন পাড়া এলাকায় ১৮৬৫ সালে গুনামেজু বৌদ্ধবিহারটি স্থাপন করা হয়। বিগত ১৫৫ বছর ধরে ওই এলাকার বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের (রাখাইন) লোকজন এই বিহারটি ধর্মীয় ভাবে নানা অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ব্যবহার করে আসছে। সম্প্রতি সময়ে বিহার রক্ষানাবেক্ষণ ও সংস্কারের নামে কথিত একটি কমিটির প্রতিনিধি নিয়ে রাখাইন সম্প্রদায়ের ৪২ পরিবার ও চার পরিবারের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা দেয়। এই নিয়ে সমাজের দু’পক্ষের বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের মতবিরোধে জড়িয়ে পড়ে কথিত বিহার কমিটির ও জায়গার মালিকানা দাবী করে রাখাইন পাড়া এলাকার মং ইয়াই প্রকাশ মং মাস্টার বৃহস্পতিবার সকাল থেকে ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসী ও লোকজন নিয়ে প্রশাসনের নাম ভাঙ্গিয়ে বিহার ভাংচুর করেন। এসময় মং মাস্টার বিহারের ভিক্ষুকে তাড়িয়ে দিয়ে বৌদ্ধ বিহারে থাকা তিনটি স্বর্ণ ও বৌদ্ধ ধাতুর মূল্যমান মুর্তি লুট করে নিয়ে গেছে বলে দাবী করেছেন রাখাইনরা।

হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার কমিটির উপদেষ্টা আ লং রি বলেন, একটি পুরাতন বৌদ্ধ বিহার সংস্কার করতে হলে আগে বিহার কমিটির দায়িত্বরত ব্যাক্তিদের নিয়ে বৈঠক করা দরকার। এটা কারো ব্যাক্তিগত বিষয় না, এই বিহারটি পুরো রাখাইন সম্প্রদায়ের সম্পদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়। বিহার কমিটিকে উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের (ইউএনও) অনুমতি নিয়ে দাবী করে মং মাস্টার সমাজের ও সম্প্রদায়ের কাউকে না জানিয়ে ভাড়াটিয়া লোকজন নিয়ে এসে আকস্মিক ভাবে পুরাতন বিহারটি ভাংচুর শুরু করেন। এতে বাঁধা দিতে গেলে উল্টো তাদেরকে প্রশাসনের ভয়ভীতি ও ক্ষমতা দেখিয়ে বিহার সংস্কারের জন্য দাবী তুলেন মং মাস্টার। এতে রাস্তায় ও বিহারে বিক্ষোভ শুরু করে বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের নারী-পুরুষ। এঘটনাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ সৃষ্টি করার চেষ্টা করে তাঁরা। তবে যে কোন অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে পুলিশ মোতায়েন করেছিল উপজেলা প্রশাসন।

ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে মং মাস্টার ছেলে সেন জু বলেন, তার বাবা অসুস্থ অনুভব করতেছে। তার সাথে কথা বলা যাবে না। প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে পুরাতন বিহারটি সংস্কারের জন্য ভাঙ্গানো হচ্ছে। বৌদ্ধ বিহারে কোন ধরণের লুটপাটের ঘটনা ঘটেনি বলে তিনি দাবী করেন।

এ ব্যাপারে চকরিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো.হাবিবুর রহমান জানান, হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার সংস্কার নিয়ে বৌদ্ধধর্মলম্বী সম্প্রদায়ের স্থানীয় রাখাইনের মধ্যে অভ্যান্তরীণ বিরোধ দেখা দেয়। এটা তাদের ব্যক্তিগত বিষয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। তবে তাদের বিষয়টি সমাধানের জন্য আমরা চেষ্টা করছি।
চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ কাছে বৌদ্ধ বিহার ঘটনার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, হারবাং গুনামেজু বৌদ্ধ বিহার সংস্কার ব্যাপারে সরকারি ভাবে একটি বরাদ্দ এসেছে। তবে পুরাতন বৌদ্ধ বিহারটি ভেঙ্গে ফেলার বিষয়ে কেউ প্রশাসনকে কেউ অবহিত করেনি এবং অনুমতিও নেয়নি।
তিনি বলেন, পুরাতন বৌদ্ধ বিহারটি ভেঙ্গে ফেলার জন্য উপজেলা প্রশাসন থেকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই কথাটি শুনার পরই তাৎক্ষণিক ভাবে থানার ওসিসহ ঘটনাস্থলে ছুটে যায়। আমরা পৌছেই বৌদ্ধ বিহার ভাঙ্গনের কাজ বন্ধ করে দিই। স্থানীয় রাখাইন সম্প্রদায়ের মং মাস্টার নামে এক ব্যাক্তি মিথ্যার আশ্রয় নিয়ে প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে এ কাজটি করেছিল। এসময় উপস্থিত বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের লোকজনকে তাদের মাঝে শান্তি শৃঙ্খলা স্বাভাবিক না হবে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত যে অবস্থায় আছে ওই ভাবে কাজ বন্ধ থাকবে বলে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের বিবাধমান বিষয়টি নিষ্পত্তি করতে
এমপি মহোদয়সহ আমরা বৈঠক করেছি। শীঘ্রই এ ব্যাপারে সমাধান করা হবে বলে তিনি জানিয়েছেন।#

এম.রায়হান চৌধুুরী
চকরিয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
তারিখ ১৭.০৭.২০২০ইং।
মো ০১৮১৩৩১৩৩১৫।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost