রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৩২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

সিলেটে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি হচ্ছে বেকারি পণ্য!

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৬ নভেম্বর, ২০২০, ১২.০৮ পিএম
  • ১৩৯ বার পঠিত

সিলেটে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি হচ্ছে বেকারি পণ্য!

 

সিলেট নগরীর কালিঘাটে অস্বাস্থ্যকর উপায়ে তৈরি করা হচ্ছে নিমকি, সমুছা, বিস্কুট, চানাচুুর, বুট সহ আরও হরেক রকম মুখরোচক খাদ্যপণ্য। মঙ্গলবার সেখানে অভিযান চালিয়েছে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর। অধিদপ্তরের সিলেট জেলা সহকারী পরিচালক আমিরুল মাসুদ এই অভিযানে নেতৃত্ব দেন। এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছেন তিনি। যা মুহুর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়েছে।আমি লজ্জ্বিত!!!!! আমাকে ক্ষমা করবেন!!!

 

প্রতিদিনের মত আজকেও কর্মস্থল সিলেটের বিভিন্ন এলাকায় আমার বাজার তদারকি অভিযান কর্যক্রম ছিল। তবে, আজকের কর্যক্রমের অভিজ্ঞতাটি ছিল একটু ভিন্ন। অভিযানের শুরুতেই সুরমা গেইট এলাকায় একটি মিষ্টান্ন উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের কারখানায় তদারকি ও ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করার পর খোঁজ করছিলাম সিলেটের মসলা কারখানাগুলেতে কোন অনিয়ম চলছে কিনা। দুপুরের পরে সিলেট শহরের চালিরবন্দরের রাস্তা ধরে এগোচ্ছিলাম কালিঘাটের মসলা মিলগুলোর দিকে। কিছুদূর যেতেই অন্যরকম এক ভাঁজাপোড়া আর তেলের উদ্ভট গন্ধ নাকের মধ্যে এসে লাগলো। সঙ্গে প্রটেকশনের দায়িত্বে থাকা RAB-9 এর হাবিলদার রফিক সাহেবের কাছে জানতে চাইলাম এ গন্ধটি কোথায় থেকে আসছে!!!! হাবিলদার সাহেবও আমার মত কোন কিছু বুঝে ওঠতে পারছিলেন না। তিনি অগত্যা পাশের এক দোকানিকে জিঙ্গেস করলে, দোকানি এক উদাসীন ভঙ্গিতে হাত উঁচিয়ে একটা রাস্তা দেখিয়ে দিয়ে আবার কি একটা কাজে ব্যাস্ত হয়ে পড়লো। ভাবখানা এমন যেন, এ আর এমনকি!! যেএকেবারে গাড়ির বহর থামিয়ে জিঙ্গেস করছো!!! দোকানির এহেন ইশারাটি দেখে আমার সন্দেহ আরো বেড়ে গেলো। হাবিলদার সাহেবকে বললাম, ‘’গাড়ি দুইটিকে সাইড করতে বলেন, আমরা এখানে নামবো।” হাবিলদার সাহেব আমার কথাটিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে নিয়ে সঙ্গে সঙ্গে গাড়ি থেকে নেমে পড়লেন। প্রস্তুতি নিলেন পূর্ণ অভিযানের। আমি ও আমার সহকারীসহ RAB-9 এর আরো প্রায় ৮-১০ জন্য সদস্য হাটা শুরু করলাম দোকানির দেখানোআমি কি পারবো তাদের বিকল্প আয়ের রাস্তা তৈরি করে দিতে। এ সুযোগ কি আছে আমার!!” এসব চিন্তা করতে করতে কখন যেন সন্ধ্যা হয়ে চারপাশ অন্ধকার হয়ে গেছে ঠাহরই করতে পারলাম না। অবশেষে, সবকিছু ভেবে-চিন্তে তাদেরকে অন্তত অল্পবিস্তার সচেতন করার উদ্দেশ্যে পুরো বস্তিতে ১ লক্ষ টাকা জরিমানা করলাম। তবে বিশ্বাস করেন, অনেক ইচ্ছা থাকা সত্বেও ধ্বংস করতে পারি নি একটি অখাদ্য পণ্যও। কেন যেন নিজের বিবেকের সাথেই যুদ্ধ করে হেরে যাচ্ছিলাম বারবার৷

 

আজকে আমি বন্ধ করতে পারিনি আমার চোখের সামনে উৎপাদিত হওয়া অস্বাস্থ্যকর খাদ্য পণ্য। আমি পারি নি আপনাদের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে। এ যে আমার এক অন্যন্য ব্যর্থতা। আমি লজ্জ্বিত। আমাকে ক্ষমা করবেন। কিছুই করার ছিল না আমার!!!!!!

 

রিপোর্টঃ পলাশ দেবনাথ দৈনিক এটিএম নিউজ সিলেট।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News