সোমবার, ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১০:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘অমানবিক নির্যাতনের ফলে’ মারা যাওয়া নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদের (৩৩) সঙ্গে সেই রাতে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনার বর্ণনা দিলেন

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২০, ৩.১০ পিএম
  • ৮৭ বার পঠিত

সিলেটের বন্দরবাজার পুলিশ ফাঁড়িতে ‘অমানবিক নির্যাতনের ফলে’ মারা যাওয়া নগরীর আখালিয়া এলাকার যুবক রায়হান আহমদের (৩৩) সঙ্গে সেই রাতে ঘটে যাওয়া ভয়ঙ্কর ঘটনার বর্ণনা দিলেন

রিপোর্ট পলাশ দেবনাথ দৈনিক এটিএম নিউজ সিলেট

প্রত্যক্ষদর্শী এক সিএনজি অটোরিকশা চালক। ওই চালক ও তাঁর আরেক সঙ্গীর দুটি সিএনজি অটোরিকশাতেই সেই রাতে বন্দরবাজার ফাঁড়ির দুটি পুলিশ টিম টহল দেয়। এর মধ্যে একটি অটোরিকশাতেই রায়হানকে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ।

সেই অটোরিকশা চালক সিলেটভিত্তিক নিউজ চ্যানেল ভয়েজ অব সিলেটকে দেয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, শনিবার দিবাগত (১২ অক্টোবর) রাতে সিলেট নগরীর কাষ্টঘর এলাকার একটি সুইপার কক্ষ থেকে রায়হানকে বের করে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন গণপিটুনির কোনো ঘটনা ঘটেনি। এর আগে নগরীর মাশরাফিয়া রেস্টুরেন্টের সামনে অজ্ঞাত দুইজন লোক এসে পুলিশকে খবর দেয়, কাষ্টঘরের গলিতে একটি ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটেছে। এরপর আমাদের ফোন দিয়ে বলা হয় মাশরাফিয়া রেস্টুরেন্টের কাছে আসতে।

সেই অটোরিকশা চালক জানান, পুলিশ গিয়ে একটি সুইপারের কক্ষ থেকে রায়হানকে ডেকে বের করে। তখন সেখানে কোনো ছিনতাই বা রায়হানকে গণধোলাইয়ের ঘটনা ঘটতে দেখেননি অটোরিকশা চালক। ওই গলি থেকে রায়হানকে বের করে দ্বিতীয় (ওই চালকের সঙ্গীর) অটোরিকশাযোগে ফাঁড়িতে নিয়ে আসে পুলিশ। তখন সুস্থ শরীরেই ছিলেন রায়হান। এরপর তাকে এক রুমে নিয়ে যাওয়া হয়। এসময় বাহির থেকে আমরা শুনেছি রায়হান বলছিলেন- আমি কোনো ছিনতাইকারী বা অপরাধী নই। আমি একজন ভাল মানুষ। এসময় আকবর ফাঁড়িতে ছিলেন। এর আগে পুলিশকে কিছু টাকাও দেখিয়েছিলেন রায়হান। তারা বলছে, এগুলা না তুই বের হয়ে আয়। রায়হানের সাথে চাকু, ছুরি কিছুই ছিলনা এবং তাকে দেখে ছিনতাইকারিও মনে হচ্ছিলনা বলছিলেন অটোরিকশা চালক।

রায়হানকে পুলিশ ফাঁড়ির ভেতরে নিয়ে যাওয়ার পর দুই অটোরিকশা চালক ফাঁড়ির বাইরে কিছু সময় অপেক্ষা করে ১০-১৫ মিনিট পর ঘুরতে চলে যাই। পরে ফজরের ওয়াক্তে শুনি তাকে মেডিকেল নিতে হবে। পরে সকালে রায়হানকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় ওই দুই চালকের মধ্যে একজনের অটোরিকশাতে করে ওসমানী হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ। এর আগে গাড়িতেই রায়হানের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়ে গিয়েছিল বলে জানান অটোরিকশা চালক।

অটোরিকশা চালক আরও জানান, হাসপাতালে নেয়ার পর রায়হানের অবস্থা আরও খারাপ হয় এবং তাকে অক্সিজেন দেয়া হয়। এক্সরে করতে বলা হয়। এক্সরে রিপোর্ট আসার পর জানা যায়, রায়হানের হাতের হাড়গোড় ভাঙ্গা সব। নখ উপড়ানো। এরপর ডাক্তার তাকে পানি খাওয়ায়। পানি খাওয়ানোর পর নাকি সে স্ট্রক করে মারা গেছে এমনটাই বলছিলেন চালক। এর আগে ফাঁড়ি থেকে রায়হানকে বের করার সময় তার হাটুর নিচে ও হাতের আঙ্গুলে আঘাতের চিহ্ন দেখেন ওই চালক। এসময় চালক দুই পুলিশ সদস্যকে কানাঘুষা করতে শুনেন- আকবর খুব বেশি মেরেছে। ধরে আনছে। এমনভাবে কি কাউকে মারা হয়?

তারা কি প্রায়ই একরম নিরিহ মানুষদের ধরে নিয়ে আসতো? আমরা অভিযোগ পেয়েছি টাকার জন্য ধরে এনে মারধোর করা হতো। এরকম ঘটনা কি এর আগে ঘটেছে প্রশ্নের জবাবে চালক জানান, হ্যা ঘটেছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News