শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৭:১৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

সরকারের কাল্পনিক বাজেটে জনগণ হতাশ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৬ জুন, ২০২০, ৯.২৯ পিএম
  • ২৯০ বার পঠিত

জাতীয় সংসদে ২০২০-২০২১ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের সমালোচনা করেছে বিএনপি নেতৃত্বাধীন বিশ দলীয় জোট। শুক্রবার সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক যুক্ত বিবৃতিতে জোটের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেছেন, কোভিড-১৯ মহামারীতে যখন দেশের জনগণের জীবন ও জীবিকা বিপর্যস্থ, অর্থনৈতিক কর্মকান্ড স্থবির, রফতানি ও আমদানি প্রায় সম্পূর্ণই বন্ধ, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে, যাতায়াত ব্যবস্থা রূদ্ধপ্রায়, স্বাস্থ্য ব্যবস্থার রুগ্নতা প্রকট এবং এসব মোকাবেলায় সরকারি সামর্থের দীনতা- দক্ষতার অভাব ও দুর্নীতি-অনাচার রোধে ব্যর্থতা প্রকট ভাবে দৃশ্যমান – তখন জাতীয় সংসদে পেশকৃত বাজেটে বাস্তবতা বিবর্জিত ও কাল্পনিক প্রবৃদ্ধির হার, রাজস্ব আয় ও মুল্যস্ফীতির হার নির্ধারণ এবং জনস্বাস্থ্য ও দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবন-জীবিকা রক্ষায় প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম ব্যয় বরাদ্দের ফলে জনগণের হতাশা ও ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়েছে।

২০ দল মনে করে যে জনগণের দ্বারা নির্বাচিত নয় বলেই জনগণের কাছে দায়বদ্ধতা কিম্বা জবাবদিহীতার দায়মুক্ত বাস্তবে একটি একদলীয় সরকারের আচরণে কাল্পনিক সাফল্যের দিবাস্বপ্ন দেখানোর অপপ্রায়াসই স্বাভাবিক। বাজেট উপস্থাপনকালে অর্থমন্ত্রী করোনার কারণে বেকার মানুষের সংখ্যা ১৪ লাখ বলেছেন, যা বাস্তবের তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে যে প্রবাসীদের পুর্নবাসন ও কর্মসংস্থানের জন্য বাস্তব সহায়তার কোনো সুস্পষ্ট প্রতিশ্রুতি কিম্বা দিক নির্দেশনা বাজেটে নেই। করোনায় দেশের অর্থনীতির প্রধান দুই খাত তৈরী পোশাক শিল্প ও প্রবাসী বাংলাদেশীদের পাঠানো উপর্জন মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সত্ত্বেও এই দুই খাতে সংকট নিরসন ও উন্নয়নের লক্ষ্যে কোনো কার্যকর পরিকল্পনার কথা বাজেটে উল্লেখ নেই।

অন্যদিকে সরকারি ব্যয় নির্বাহের জন্য ব্যাংকিং খাত থেকে অধিক পরিমাণ ঋণ গ্রহণের ফলে ব্যক্তিখাতে ঋণ প্রবাহ এবং নতুন কর্মস্থান সৃষ্টির সুযোগ আরো হ্রাস পাবে – যার পরিণতি হবে দেশের জন্য আরো ভয়াবহ ও ক্ষতিকারক। কৃষি খাতে ঋণ সহায়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে নানা শর্ত আরোপের ফলে বর্গা চাষী ও ক্ষুদ্র চাষীরা বঞ্চিত হবে বিধায় এসব শর্ত শিথিল করা আবশ্যক। গার্মেন্টস, নির্মাণ, কৃষি শ্রমিক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, হোটেল-রেস্টুরেন্ট, পরিবহণ, পর্যটন, হকার্স, কুলি, গৃহ শ্রমিকসহ দেশের অপ্রাতিষ্ঠানিক খাতের কয়েক কোটি মানুষ এবং তাদের পরিবারের সদস্যগণ যখন অনাহার-অর্ধাহারে ও বিনা চিকিৎসায় বিপন্ন তখন তাদের জীবন বাঁচানো ও জীবিকা পুনরুদ্ধারের জন্য পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের চেয়ে বাজেটে জরুরি নয় এমন অবকাঠামো খাতে অধিক ব্যয় বরাদ্দকে ২০ দল জনগণের প্রতি সরকারের দায়িত্বহীনতা বলে মনে করে। একইসাথে তামাকজাত পণ্য ও বিলাস সামগ্রীর উপর বেশি কর আরোপ না করে সর্বাজনীনভাবে ব্যবহৃত মোবাইল ফোনের কলচার্জ ও ইন্টারনেট ব্যবহারের উপর কর বাড়ানো, কম আয়ের মানুষের চেয়ে বেশী আয়ের মানুষদের ব্যক্তিগত আয়ের উপর অধিক রেয়াত প্রদান, কালো টাকা সাদা করার মাধ্যমে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করা এবং বিদেশে টাকা পাচারকারীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পরিবর্তে শুধুই কিছু জরিমানার প্রস্তাব অর্থবান ও ক্ষমতাবানদের প্রতি সরকারের নমনীয়তা ও আত্মসমর্থনের প্রমাণ বলেও ২০ দল মনে করে।

বিশ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বলেন, ২০ দল বাজেট অনুমোদনের আগেই এসব বিষয় সংশোধন করে করোনা মোকাবেলায় সক্ষমতা অর্জনের লক্ষ্যে সারাদেশে দৈনিক অন্তত ৫০/৬০ হাজার মানুষের কোভিড টেস্টের সুযোগ সৃষ্টি, উপজেলা পর্যায় পর্যাপ্ত টেস্ট, চিকিৎসা ও রোগের বিস্তার প্রতিরোধের সামর্থ সৃষ্টির লক্ষ্যে পর্যাপ্ত বাজেট বরাদ্দ, সকল কর্মহীন পরিবারকে স্বাস্থ্য সম্মতভাবে বেঁচে থাকার মত ত্রাণসামগ্রী রেশনকার্ডের মাধ্যমে যতদিন প্রয়োজন ততদিন সরবরাহের এবং গার্মেন্টসসহ ক্ষুদ্র, মাঝারী ও কুটির শিল্পে যাতে কাউকে ছাঁটাই করা না হয় সেই শর্তে প্রয়োজনীয় ঋণ/সহায়তা প্রদানের দাবি জানাচ্ছে। করোনা মহামারিতে শহীদদের আত্মার মাগফেরাত কামনা করে ইতোমধ্যেই ২০ দলের শরীক দলসমূহ দুঃস্থ জনগণের সেবায় যে ত্রাণ তৎপরতা চালাচ্ছেন তা আরো বিস্তৃত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছে।

বিবৃতি দাতারা হলেন ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়কারী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরোয়ার, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান ড. অলি আহমদ, খেলাফত মজলিসের আমির অধ্যক্ষ মাও: মোহাম্মদ ইসহাক, বাংলাদেশ কল্যাণ পার্টির চেয়ারম্যান মেজর জেনারেল (অব:) সৈয়দ মোহ: ইব্রাহীম, জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, জমিয়তে ওলামায়ে ইসলামের নির্বাহী সভাপতি আল্লামা নূর হোসেন কাসেমী, লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা: মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এনপিপির ড. ফরিদুজ্জামান ফরহাদ, ইসলামী ঐক্যজোটের চেয়ারম্যান মাওলানা আব্দুর রকিব, ন্যাপ ভাসানী চেয়ারম্যান আজহারুল ইসলাম, মুসলিম লীগের সভাপতি এএইচএম কামরুজ্জামান খসরু, পিপলস লীগের চেয়ারম্যান গরীবে নেওয়াজ, জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির চেয়ারম্যান খন্দকার লুৎফর রহমান, ডেমোক্রেটিক লীগের সাধারণ সম্পাদক সাইফুদ্দিন আহমেদ মনি, বাংলাদেশ ইসলামিক পার্টির চেয়ারম্যান আবু তাহের, সাম্যবাদী দলের সম্পাদক সাঈদ আহম্মদ, এনডিপির চেয়ারম্যান ক্বারী আবু তাহের, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা ও বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান শাওন সাদেকী।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News