রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:১৯ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

মহেশখালীতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাখ লাখ টাকা হরিলুট।। 

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০, ১০.৫৪ পিএম
  • ২৭৩ বার পঠিত

মহেশখালীতে প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে লাখ লাখ টাকা হরিলুট।।

 

রিপোর্ট: ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান দৈনিক এটিএম নিউজ মহেশখালী!

 

কর্মহীন দরিদ্র শ্রমজীবীদের জন্য কাজের সুযোগ তৈরির লক্ষ্যে ৪০ দিনের কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্প চালু করে সরকার। তবে কক্সবাজারের মহেশখালীতে এ কর্মসূচির লক্ষ লক্ষ টাকা হরিলুট করছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, রাজনীতিবিদ ও স্থানীয় প্রশাসন। কাজ না করেই ভাতা উত্তোলন, অল্পসংখ্যক শ্রমিক দিয়ে কাজ করে বেশি সংখ্যা দেখিয়ে টাকা তুলে নেয়া এবং অদৃশ্য কাজ দেখিয়ে টাকা উত্তোলনসহ দুর্নীতির মাধ্যমে দরিদ্রদের এ টাকা যাচ্ছে প্রভাবশালী ও সংশ্লিষ্টদের পকেটে।

 

জানা গেছে, অতিদরিদ্র শ্রমিকদের চল্লিশ দিনের কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে দাতা সংস্থার আর্থিক সহায়তায় এ প্রকল্প চালু করে সরকার। কিন্তু উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়ন পরিষদের মেম্বার, চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্টসহ স্থানীয় প্রভাবশালীরা অনিয়মের মাধ্যমে হাতিয়ে নিচ্ছেন দরিদ্রদের এ অর্থ। স্থানীয় প্রশাসন ও ব্যাংক কর্মকর্তাদের যোগসাজশে প্রকল্প সংশিষ্টদের নানা অনিয়ম, দুর্নীতি ও জালিয়াতির কারণে ভেস্তে যাচ্ছে সরকারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য।

 

উপজলার ৮টি ইউনিয়নের ধলঘাটা ও হোয়ানক ইউনিয়নে কর্মসৃজনের কাজ দৃশ্যমান হলেও বাকি ৬টি ইউনিয়নে কাজ সম্পূর্ণ অদৃশ্য। ফলে বছরের পর বছর হতদরিদ্রের ন্যায্য এসব লাখ লাখ টাকা পকেটস্থ করছেন ইউপি চেয়ারম্যান, ব্যাংক ম্যানেজার ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা৷

 

উপজেলার (নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক) এক রাজনীতিবিদ জানান, সর্বশেষ ২০১১ সালের দিকে কর্মসৃজন কর্মসূচি (কাজের বিনিময়ে টাকা (কাবিটা’র) কাজ কিছু কিছু ইউনিয়নে করা হতো এরপর আস্তে আস্তে সেই প্রকল্পের কাজকে অদৃশ্য রেখে বছরে হতদরিদ্রের লক্ষ লক্ষ টাকা ব্যাংক ম্যানেজার, স্থানীয় চেয়ারম্যান ও প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে নিজেদের পকেটস্থ করছেন। তিনি আরো বলেন, প্রথমত ইউনিয়নের প্রতিটা ইউপি সদস্যকে সভাপতি করে আনুমানিক ৪০ সদস্য বিশিষ্ট একটি করে কমিটি গঠনের মাধ্যমে এই কার্যপ্রণালি সম্পন্ন করা হতো, এবং প্রতিটা শ্রমিকের দৈনিক মজুরি ধার্য্য ছিলো ৩৫০ টাকা। তবে করোনার প্রকোপে পড়া প্রান্তিক জনগোষ্ঠী ক্ষয়ক্ষতির বিষয়ে বিবেচনায় রেখে সরকার বর্তমানে প্রতি শ্রমিকের মজুরি ৩৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৪০০ টাকা করে দেয়।

 

কালারমারছড়া ইউনিয়নের কয়েকজন স্থানীয়রা বলেন, এই ইউনিয়নে কর্মসৃজন কর্মসূচি কাজ চলছেনা দীর্ঘ অনেক বছর ধরে। সম্ভবত এই ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মীর কাশের চৌধুরীর আমলে এই কাজ সদৃশ্য ছিলো। কিন্তু এত বছর যে কালারমারছড়া ইউনিয়নের প্রান্তিক জনপদে বেহাল অবস্থা ছিলো সেটি কি সংশ্লিষ্টদের চোখে পড়েনি? তবে বর্তমান চেয়ারম্যান তারেক বিন ওসমান শরীফ কয়েকটি গ্রামের সড়ক সংস্করণ করেছেন, যদিও সেটি কর্মসৃজন কর্মসূচি প্রকল্পের আওতাভুক্ত নয়, এটি সরকার থেকে আলাদাভাবে বরাদ্দ নিয়ে করা কাজ।

 

উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা রাশেদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে অভিযোগের বিষয় অস্বীকার করে বলেন, প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। টাকা হরিলুট এখন সম্ভব না। কারণ প্রতিটা শ্রমিকের মজুরি নিজেরাই তুলছেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News