শুক্রবার, ২২ অক্টোবর ২০২১, ০৫:৪৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

প্রথম পর্ব বুক রি। ভি। উ “নিশুপ্ত পদ্মের ঘ্রাণ” জীবনাভিজ্ঞতার নান্দনিক বয়ান- হাসান মুরাদ ছিদ্দিকী

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১০.২০ পিএম
  • ৩১৭ বার পঠিত

বুক রি। ভি। উ
“নিশুপ্ত পদ্মের ঘ্রাণ”
জীবনাভিজ্ঞতার নান্দনিক বয়ান-
হাসান মুরাদ ছিদ্দিকী

প্রথম পর্ব

।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।।
প্রাগৈতিহাসিক কাল থেকে মানুষ উৎকর্ষের অভিমুখী।নিজকে অতিক্রম করার অবিনাশি পরিকল্পনা মানুষকে অজেয় করে রেখেছে কালের হেরেমে।চারপাশে প্রতিকূলতার দেয়াল ডিঙাতে ডিঙাতে কিভাবে চিন্তার দেয়াল ভাঙা যায় তার সর্বোত চেষ্টা মানুষের মধ্যে পরিলক্ষিত।প্রাচীন মানুষগুলো যদি ফসল উৎপাদন এবং সন্তান জন্মদানের মধ্যে তার জীবনকে আবদ্ধ করে রাখত,মানুষের ক্রমশ উৎমার্গ এবং সভ্যতার বিবর্তনের যে উৎকর্ষতা তা কখনো অতিক্রম করতে পারতনা।একটা যুগ থেকে আরেকটা যুগের যে বিশাল ব্যবধান এবং একটা সভ্যতা থেকে আরেকটা সভ্যতায় উত্তরণের যে ক্রমোৎকৃতি তা কখনো সম্ভব হতোনা। ফসল ফলানোর উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরির্বতন মানুষি-সভ্যতার ইতিহাসে নিয়ে আসে যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যুথবদ্ধ আদিম সমাজের যে বিষয়টা আশ্চর্য্যের অধিক,ভাষা আবিষ্কারের দ্ব্যর্থহীন প্রয়াস। হাজার হাজার বছরের ইশারা-ঈঙ্গিতের যে সনাতনি স্টাইল,তা থেকে ভাব বিনিময়ের একটা যুৎসই আঙ্গিক উদ্ভাবনা,কালের রেকাবে অবিনাশি চেতনার মাইল ফলক হয়ে থাকবে। নিজেদের সুখ দুখের অংশিভাগ করার এমন স্পর্ধিত উদ্ভাবনা এর আগে আর কারোদ্বারা সম্ভব হয়নি।তখন থেকে মানুষ ইশ্বরের সাথে পাল্লা দেবার যে অনপনেয় সাধনায় জড়িয়েছে,তা-ই মানুষকে মানুষের ইতিহাসে প্রোজ্জ্বল করে রেখেছে। ভাষার এমন সুদূরপ্রসারী এবং দূরতিক্রম্য প্রভাব পৃথিবীতে অন্য কোন বিষয়ের বিস্তার করা সম্ভব হয়নি। আদিম মানুষের কণ্ঠগহবর থেকে বেরিয়ে আসা ভাষার প্রথম প্রকাশ,কবিতা। যেসব অনুসঙ্গের উপর কবিতার অবয়ব বা অবকাঠামো দাঁড়িয়ে থাকে তার অনুসঙ্গগুলো যদি কোন গোত্রের ভাব বিনিময়ের বাহন হয়,তাহলে বলতে হয় আদিম মানুষেরা কবিতার ভাষাতেই তাদের জীবনবোধ পরিচালিত করত। অনিভন্ত জীবনের গোহার চৌহদ্দি পেরুনোর লড়াকু মানুষের শ্বাসটান হতো কবিতার মাধ্যমে,মানব জাতির জন্যে এর চেয়ে সুসংবাদ আর কি হতে পারে? তখন থেকে মানুষ অবারিত স্বপ্নের ডানার উপর বিহঙ্গের মতো উড়ে বেড়ানোর যে প্রত্যয়ের তাড়না দেখিয়েছে তার চেতনার বেগবান ধারা মানুষকে হাজার হাজার বছর অতিক্রমের স্পর্ধা যুগিয়েছে। মানুষের চিন্তা ও আবেগের সাথে পাল্লা দিয়ে পায়ে পায়ে লক্ষ লক্ষ বছর অতিক্রম করে কবিতা স্বপ্নবান ও সাধনার যে স্তরে পৌঁছেছে,তা পৃথিবীর কোন গোত্রই অস্বীকার করতে পারবেনা। যেভাবে ঝেড়ে ফেলার অবকাশ থাকছেনা এশিয়ার সবচেয়ে উঠতি অঞ্চল এই বদ্বীপ এলাকার সর্বশেষ তীরের প্রাণবান মানুষগুলো।যাদের জীবনে অসংখ্য প্রতিকূলতার ঘেরাটোপের মধ্যে হাসফাস করতে করতে অধিকাংশ সময় পার করতে হয়,তাদের ও নান্দনিকতার এসব বর্ণিল অনুসঙ্গকে অতিক্রম করার কোন জো থাকেনা।
সুন্দরের প্রতি অভিভুত হ্ওয়ার অদম্য বাসনা এই পাললিক জনপদকে ও প্লাবিত করছে। সেই প্লাবন থেকে বিমুক্ত হতে পারনি এই প্রত্নজনপদের নিমগ্ন তারুণ্য। সেই তারুণ্যের প্রতিশ্রুতিশীল প্রতিনিধি কবি সাইফুল মোস্তফা।নিজকে,নিজের চিন্তার সীমানাকে এবং জীবন উপলব্দি ও অতিক্রম করার এমন সারবান তরুণ, এমন ঝাঞ্জাবিক্ষুব্দ সময়ে খুব বেশি পরিলক্ষিত হয়না। মাধ্যমিকের গন্ডি পার হয়ে সেয়ানা বুদ্ধির পরিচয় দিতে পারলেই বৈষয়িক বিত্ততা অর্জনের দুর্মর আকাংখা বেশিরভাগ তরুনের পেয়ে বসে,সামাজিক মর্যাদা অর্জনের অনপনেয় প্রয়াস তীব্র আকার ধারণ করে।কিন্ত সাইফুল মোস্তফা এমন একজন অগ্রসর চিন্তার বৈষয়িক বিমুখ তরুন,যার জীবনের পথচলা থেকে আজোবধি আপনাকে ঋদ্ধিও উৎন্মার্গগামিতার দিকে ক্রমশ বেগবান করার প্রত্যয়ে নিবেদিত। দূর্মূল্যের বাজারে চলমান খ্যাতির দিকে পিঠ দিয়ে দাঁড়ানো অপার সম্ভাবনার বিনির্মানবাদী মনোবৃত্তির উজ্জ্বল তারুণ্য,মাটির সোদাগন্ধে উন্মুখ এবং প্রতি হেলানো থাকায়,সষ্টির আকীর্ণ পথে বিচরণ করতে যার জীবনব্যাপী সাধনা।সেই সাধনায় কৃত্রিমতা নেই বলে রাগ শাক,তাপ অনুতাপ কোন অভাবই তাকে এই পথচলা থেকে নিবৃত করতে পারেনি।জীবন নামের একটা নির্দিষ্ট গন্ডি অতিক্রম করে মহাকালের স্মারক হওয়ার বাসনা তাকে,তার চিন্তার দ্বীপ্তিতে এনেছে বেগবান লাবণ্য। যে লাবণ্য পৃথিবীর খুব কম মানুষ উপলব্দি করতে পারে।হাতেগোনা যে কয়েকজন পারে,সাইফুল মোস্তফা তাদের মধ্যে অন্যতম। অনেকের মধ্যে একক এবং প্রত্যকের কাছে বিশিষ্ট হওয়ার চেষ্টা খুব বেশি তরুনের থাকেনা। সময় ও স্রোতের গড্ডল প্রবাহে নিমজ্জিত হয়ে বা থেকে জীবনটা কাটিয়ে দেবার তথাকথিত স্টাইল থেকে বেরুতে চান বলে সাইফুল আর দশজন তরুণ থেকে আলাদা।এই আলাদা চিন্তার ছাপ তার অধিতের ব্যাপারটাকে আউলা করে তোলেছে। সুন্দর যদি তারুণ্যকে আউলা করে না তোলে,বুঝতে হবে সে মরা। সাইফুল মরাদের দলে অন্তর্ভুক্ত হতে চাননা বলে,আজীবন হাঁটছেন অবিনাশী চিন্তার রশি বেয়ে অনাগত সম্ভাবনার দিকে। এই সম্ভাবনার দিকে আরো বেগবান চলা অব্যাহত থাকলে,তাকে এই জনপদের একটা বিশিষ্ট স্থান অধিষ্টিত করবে।লেখক যেহেতু তার স্বকাল অতিক্রম করে মহাকালের মধ্যে বিলিন হতে চান এবং মহাকালে এক সেকেন্ড বেঁচে থাকার মধ্যে স্বার্থকতা খোঁজে পান,সাইফুল ও কালের রেকাবে জ্বলজ্বল করে মহাকালের ফসিল হতে চান বলে,অহর্নিশি বুনে চলেন সৃষ্টির বেনাল ঢেউ। তার সৃষ্টি থেকে বাদ পড়েনা এই নৃ-জনপদের কোন অনুসঙ্গ। একেবারে মফস্বলের তামাটে জনপদে বেড়ে উঠা বলে এমন কতেক ছবি তার হাতে ধরা দেয়,যা সচরাচর সকলের মূল্যবোধে ফনায়িত হয়না।প্রমোট তীরবর্তী মানুষের ঘাম থেকে লবনের চাষ,বালির মতো চিকচিক করা সতেজ চিংড়ির লাফানোর উদ্যমতা,শীষ ফকিরের মাজার থেকে ঐকতানে ভেসে আসা জিকিরের হলা,চাঁদোয়া রাতে সুনসান নীরবতা ভেঙে কোকিল ও হরেক পাখির ডাক,ক্ষেতে পোয়াতি নারীর ফসল ফলানার প্রচেষ্টা,কবির আত্মজৈবনিক বেড়ে উঠার বর্ণায়ন,ফেনিল উচ্ছ্বাসে লাল কাঁকড়ার গর্তে লাকানো এবং সঙ্গমের নান্দনিক দৃশ্যপট এবং চাকরি জীবনকে উপজীব্য করে ক্রমাগত নিজেকে উজাড় করে দিয়েও পরিসমাপ্তির অপূর্ণতার ক্ষেদ বর্ণিত হয়েছে তার সষ্টির পরতে পরতে।

নিজের পরিবেশ এবং প্রতিবেশকে তুলে আনার বিরামহীন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News