রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:৩৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

বিক্ষোব্ধ ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা: কোয়ারী খুলে দিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

  • আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০, ৭.৫৮ পিএম
  • ৭৪ বার পঠিত

বিক্ষোব্ধ ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা: কোয়ারী খুলে দিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম

 

সিলেটের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি পাথর আহরণ এবং বিপনন বন্ধ করে দেয়ায় এক বছর ধরে সিলেটের বৃহৎ জনগোষ্ঠী অবর্ণনীয় দুঃখ কষ্টে নিপতিত হয়েছে। জাফলং, বিছনাকান্দি, ভোলাগঞ্জ, লোভা, উৎমা, শ্রীপুরসহ সংশ্লিষ্ট এলাকার যুগ যুগ ধরে পাথর আহরণের মাধ্যমে লাখ মানুষের কর্মসংস্থান পাথর কোয়ারি বন্ধের ফলে সৃষ্ট হয়েছে ভয়াবহ সঙ্কট। অথচ সিলেটের পাথর কোয়ারিতে পাথর আহরণ করে প্রান্তিক জনগোষ্ঠী বংশ পরম্পরায় জীবিকা নির্বাহ করে আসছে। আহরিত এ পাথরের আয় বাবদ সরকার প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা রাজস্ব পেয়ে আসছিল।

 

এছাড়া আহরিত এ পাথর বিপণনের সাথে সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, স্টোন ক্রাশার, মিল মালিক, পাথর ব্যবসায়ী, ট্রাক-ট্রাক্টর শ্রমিক, বার্জ, কার্গো, নৌকা মালিক শ্রমিক, পরিজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করতেন। সিলেটের এ পাথরের গুণগত মান উন্নত হওয়ায় দেশের নির্মাণ শিল্পের অন্যতম কাঁচামাল হিসেবে এ পাথর ব্যবহার হয়ে আসছিল। বুয়েট, শাহজালাল ইউনির্ভাসিটিসহ দেশের সকল প্রকৌশল সংস্থার মান বিবেচনায় এ পাথরের গুণগত মান এশিয়া মহাদেশের মধ্যে শ্রেষ্ট মনোনীত হওয়ায় নির্মিত অবকাঠামোর মজবুত ও স্থায়ীত্ব সর্বজন স্বীকৃত।

 

 

 

পাথর কোয়ারীগুলো বন্ধ থাকায় এ অঞ্চলের লাখ লাখ মানুষ পরিবার পরিজন নিয়ে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। কর্মহীন এ প্রান্তিক জনপদে আজ দুর্ভিক্ষের পদধ্বনি। পাথর সংশ্লিষ্ট হাজার হাজার ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী আজ সর্বস্বান্ত। তারা ব্যাংক লোন নিয়ে ব্যবসা শুরু করে আজ দেউলিয়া। সিলেটের পাথর কোয়ারী বন্ধ করে দেয়ায় মানুষের জীবন জীবিকার উপর যে মারাত্মক দুর্বিসহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে তা বর্ণনাতীত। সিলেটের ১০ লাখের বেশি পাথর সংশ্লিষ্ট জীবিকা নির্বাহকারী ও তাদের পরিজনদের বাঁচাতে অবিলম্বে পাথর আহরণের সুযোগ প্রদানের দাবি জানার শ্রমিক ও ব্যবসায়ীরা। তাদের এ ন্যায্য দাবী আদায়ের স্বার্থে প্রয়োজনে সিলেটে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে বলে জানান শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।

 

পাথর কোয়ারীগুলো খুলে দিতে আন্দেলনে যাচ্ছে সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা। দীর্ঘদিন কোয়ারী বন্ধ থাকায় আন্দোলন ছাড়া তাদের আর কোন পথ নেই বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ী-শ্রমিকরা। শ্রমিকরা জানান- প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মানবতার কল্যানে ও শ্রমিকদের জন্য কাজ করে যাচ্ছেন। কিন্তু সিলেটের পাথর কোয়ারীর ১০ লক্ষাধিক মালিক-শ্রমিক মানবেতর জীবন যাপন করছেন। তাই বিষয়টি নজরে নিয়ে অসহায় মালিক-শ্রমিকদের জীবন-জীবিকা রক্ষায় আশ্রয় দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানান তারা।

 

এদিকে, সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী খুলে দেয়ার দাবিতে বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের ব্যনারে বৃহস্পতিবার (৩ ডিসেম্বর) দুপুরে সিলেট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে বিশাল মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এ কর্মসূচি থেকে সিলেটের সকল পাথর কোয়ারী খুলে দিতে ৭২ ঘন্টার আল্টিমেটাম দিয়েছেন বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের নেতৃবৃন্দ। একই সাথে উপরোক্ত সময়ের মধ্যে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা না হলে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে চুড়ান্ত কর্মসূচির ঘোষণা করা হবে বলে জানান তারা।

 

বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের আহবায়ক আব্দুল জলিল মেম্বারের সভাপতিত্বে মানববন্ধন ও সংক্ষিপ্ত সমাবেশে বক্তব্য রাখেন সিলেট বিভাগীয় ট্রাক মালিক ঐক্য পরিষদ ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সভাপতি আলহাজ গোলাম হাদী ছয়ফুল। সিলেট বিভাগীয় ট্রাক, পিকআপ ও কাভর্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সভাপতি ও জেলা ট্রাক শ্রমিক ইউনিয়নের ইউনিয়নের সভাপতি শ্রী আবু সরকার, সিলেট জেলা সিএনজি চালিত অটো রিক্সা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি মোহাম্মদ জাকারিয়া, সিলেট জেলা বাস মিনিবাস শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সাধারণ সম্পাদক মোঃ মইনুল ইসলাম, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ-কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের কার্যকরি সভাপতি মোঃ আব্দুস সালাম, সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট বিভাগীয় ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ঐক্য পরিষদের যুগ্ম সম্পাদক মোঃ আমির উদ্দিন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের দফতর সম্পাদক আফজল চৌধুরী, ছাতক পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক আব্দুল হাই আজাদ, এয়ারপোর্ট স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি হাজী নাসির উদ্দিন, জাফলং স্টোন ক্রাশার মালিক সমিতির সভাপতি বাবলু বখত, সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস উদ্দিন লিপু, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক হাজী আবুল হোসেন, যুগ্ম সম্পাদক শওকত আলী বাবুল, ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলাম। বৃহত্তর সিলেট পাথর সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী-শ্রমিক ঐক্য পরিষদের সদস্য সচিব মোঃ নুরুল আমীন ও সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সাংগঠনিক সম্পাদক শাব্বীর আহমদ ফয়েজের যৌথ পরিচালনায় মানববন্ধ ও সামাবেশে অন্যানের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, সিলেট জেলা ট্রাক মালিক গ্রুপের সিনিয়র সহ সভাপতি আতিকুর রহমান আতিক, সাধারণ সম্পাদক পুলক কবির চৌধুরী, সিলেট জেলা ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের সহ সভাপতি মোঃ জুবের আহমদ, যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, সাংগঠনিক সম্পাদক শামীম আহমদ, প্রচার সম্পাদক সামাদ রহমান, দফতর সম্পাদক বাবুল আহমদ, কোষাধ্যক্ষ রাজু আহমদ তুরু, নির্বাহী সদস্য শরিফ আহমদ, আলী আহমদ, আব্দুল মতিন, আব্দুল জলিল, বিল্লাল আহমদ, সিলেট জেলা ট্রাক, পিকআপ ও কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের দক্ষিণ সুরমা-মোগলাবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কাউছার আহমদ, সাধারণ সম্পাদক মারুফ আহমদ, শাহপরাণ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি ফুল মিয়া, সম্পাদক আজিজুর রহমান রহিম, ফেঞ্চগঞ্জ উপজেলা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রাসেল আহমদ টিটু, সম্পাদক আহমদ লালু মিয়া, জৈন্তাপুর উপজেলা আাঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক সুনিল দেবনাথ, কানাইঘাট আাঞ্চলিক কমিটির আহবায়ক ও জেলা ট্রাক পিকআপ কাভার্ডভ্যান শ্রমিক ইউনিয়নের যুগ্ম সম্পাদক মোহাম্মদ আলী, পশ্চিম গোয়াইনঘাট আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি হাফিজুর রহমান, সম্পাদক মুজিবুর রহমান, পূর্ব গোয়াইনঘাট আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোঃ ছবেদ মিয়া, সম্পাদক আব্দুর রহিম, কোম্পনীগঞ্জ আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতিআব্দুল হান্নান, সম্পাদক মাহফুজুর রহমান, গোলাপগঞ্জ আাঞ্চলিক কমিটির সভাপতি বদরুল ইসলাম, সম্পাদক সায়েল আহমদ, বিয়ানীবাজার আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মানিক উদ্দিন, সম্পাদক শাহাব উদ্দিন সাবুল, জকিগঞ্জ উপজেলা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি রুবেল আহমদ, সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ, জালালাবাদ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি কালা মিয়া, সম্পাদক আলমগীর, ওসমানীনগর থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি সুরুজ আলী, সম্পাদক বাবুল মিয়া, বালাগঞ্জ আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি শ্রী সুজিব চন্দ্রগুপ্ত বাচ্চু, সম্পাদক মাহমুদ আব্দুন নুর, বিশ^নাথ থানা আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি আলাল মিয়া, সম্পাদক মকবুল ইসলাম, সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ সালেহ আহমদ শাহনাজ, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা শ্রমিক ট্রেড ইউনিয়নের সভাপতি সিরাজুল ইসলাম, জাফলং পাথর ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি আব্দুর রহিম, সহ সভাপতি ইসমাঈল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক দেলোয়ার হোসেন, কানাইঘাট মুলাগুল পাথর ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি মোঃ গিয়াস উদ্দিন প্রমূখ।

 

মানববন্ধন ও সমাবেশ শেষে মিছিল সহকারে জেলা প্রশাসকের কাছে ৭২ ঘন্টার আলিন্টমেটাম দিয়ে স্মারকলিপি প্রদান করেন নেতৃবৃন্দ। স্মারকলিপিতে পাথর কোয়ারী খুলে দিতে মহামান্য হাইকোর্টের নির্দেশের কপি দিয়ে সংযুক্ত করে নেতৃবৃন্দ দাবী করেন শীঘ্রই পাথর কোয়ারী খুলে দিয়ে ১০ লক্ষাধিক মালিক-শ্রমিকের জীবন রক্ষার আহবান জানান।

 

রিপোর্ট :পলাশ দেবনাথ এটিএম নিউজ টিভি

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News