মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ১২:৫১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

বাজেট চিন্তা-২ঃ জরুরী বাজেট বরাদ্দ দিয়ে ফিল্ড হসপিটাল তৈরি করুন

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ১৩ জুন, ২০২০, ২.৫৬ এএম
  • ২৪৮ বার পঠিত

HME Rimon

মাননীয় অর্থমন্ত্রী এবং স্বাস্থ্যমন্ত্রীর জরুরী দৃষ্টি আকর্ষণ করছি। হাসপাতালের বাইরে আর অসহায় মানুষের লাশ দেখতে চাই না, জরুরী বাজেট বরাদ্দ দিয়ে ফিল্ড হসপিটাল তৈরি করুন। সকল করোনা আক্রান্ত রোগীর জন্য চিকিৎসা সেবা নিশ্চিত করুন।

প্রতিদিন হাসপাতালের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরে অনেক কোভিট রোগী মারা যাচ্ছেন। অসহায় মানুষ তাদের স্বজনদের হাসপাতালে ভর্তি করতে পারছেন না।

ঘটনা-১: চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ড উপজেলার ফৌজদারহাটের বাসিন্দা তৌহিদুল আনোয়ার। মঙ্গলবার রাতে শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রীকে নিয়ে দুই হাসপাতাল ঘুরে, চিকিৎসকের পায়ে ধরেও পাননি আইসিইউ। শেষ রাতে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মৃত্যু হয় তার স্ত্রীর।

ঘটনা-২: শরীরে জ্বর। সাথে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট। দু’টোই করোনাভাইরাসের অন্যতম উপসর্গ। স্বামীকে নিয়ে রাজধানীর এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটছেন স্ত্রী রিনা ইসলাম। কিন্তু স্বামীর করোনা উপসর্গ থাকায় কোনো হাসপাতালই ভর্তি নিল না। অবশেষে ছটফট করতে করতে স্ত্রীর কোলে মৃত্যুবরণ করলেন স্বামী নুর আল আহাদ।

ঘটনা-৩: বাথরুমে পড়ে আঘাত পেয়েছিলেন মো. এনায়েত উল্ল্যাহ (৭২); অবস্থার অবনতি ঘটলে তাকে অক্সিজেন দিতে হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরেছেন স্বজনরা; কিন্তু ভর্তি করাতে পারেননি। শেষে মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে ভর্তির আগেই না ফেরার দেশে পাড়ি জমান এই বৃদ্ধ।

ঘটনা-৪ : বুধবার মধ্যরাতে হাসপাতাল থেকে হাসপাতাল ঘুরে বিনা চিকিৎসায় মৃত্যু হয়েছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক জোবায়ের চৌধুরীর বাবা জসিম উদ্দিন ও নগর বিএনপির সহ-সভাপতি লায়ন মো. কামাল উদ্দিনের।

ঘটনা-৫ : মঙ্গলবার সকালে বুকে ব্যথা নিয়ে চট্টগ্রাম শহরের হাসপাতালের পর হাসপাতাল ঘুরেও চিকিৎসা মেলেনি বায়েজিদ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক শফিউল আলম ছগীরের। সময় মতো চিকিৎসা না পেয়ে গাড়িতেই মৃত্যুবরণ করেন তিনি।

সরকারি হাসপাতালে পর্যাপ্ত আইসিউ সুবিধা নেই। সীমিত সংখ্যক রোগীকে ইমার্জেন্সিতে অক্সিজেন সরবরাহ করা হচ্ছে। বেসরকারি হাসপাতালগুলি রোগী ভর্তিতে নানারকম টালবাহানা করছে। তাছাড়া বেসরকারি হাসপাতালে গলাকাটা বিল করা হচ্ছে যার ব্যয়ভার মধ্যবিত্ত পরিবারের পক্ষেও বহন করা অসম্ভব।

আমরা শুনেছি বাংলাদেশের জিডিপি সিঙ্গাপুরের হতে যাচ্ছে। পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি মাথাপিছু আয়ের দেশ কাতারের চেয়েও আমাদের জিডিপি বেশি।

সাধারণ পাবলিক জিডিপি ধুয়ে কি পানি খাবে? করোনার মহামারিতে একজন কোভিট রোগীকে ন্যূনতম হাসপাতালে ভর্তির নিশ্চয়তা দিতে না পারলে এত বড় মাপের জিডিপি দিয়ে আমরা কি করব?

আমরা আশা করি জরুরী ভিত্তিতে বাজেট বরাদ্দ দিয়ে দেশের প্রতিটি অঞ্চলে ফিল্ড হাসপাতাল তৈরি করে করোনা রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিত করবেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News