শনিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৩০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

ফরিদপুরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ ৯ মেম্বারের

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ২১ জুন, ২০২০, ৪.২৯ পিএম
  • ১২৭ বার পঠিত

ফরিদপুরের সদরপুর উপজেলার চর নাসিরপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো: আক্কাস আলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ করেছেন ওই ইউপির ৯ জন ওয়ার্ড মেম্বার। ওই ইউনিয়নের ১ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আ: জব্বার মাতুব্বর, ২ নং ওয়ার্ডের ইউনুস মাতুব্বর, ৩ নং ওয়ার্ডের রুহুল আমীন, ৫ নং ওয়ার্ডের ফরহাদ কাড়াল, ৭ নং ওয়ার্ডের আ: ওহাব জঙ্গি, ৮ নং ওয়ার্ডের মালেক মণ্ডল, ৯ নং ওয়ার্ডের আ: জব্বার হাওলাদার, সংরক্ষিত নারী আসনের (১,২,৩) হীরা আক্তারী ও (৭,৮,৯) নং আসনের আলাতুন নেসা এতে স্বাক্ষর করেন।

পদ্মা ও আড়িয়ালখাঁ বেষ্টিত চর নাসিরপুর ইউনিয়নে প্রায় ১১ হাজার ভোটার রয়েছে। এখানকার অধিকাংশ অধিবাসীই নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়ে দরিদ্র। বিগত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে সেখানে চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন মো: আক্কাস আলী। গত বৃহস্পতিবার তার বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে লিখিত অভিযোগ দেয়া হয়।

অভিযোগে তারা বলেন, স্থানীয় সরকারের নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ডে তাদেরকে সম্পৃক্ত না রেখে ইউপি চেয়ারম্যান অনিয়ম ও দুর্নীতি করছেন। এর প্রতিবাদ করলে তাদেরকে ভয়ভীতি দেখান। মাসিক সভায় তাদেরকে ডাকেন না। ভয় দেখিয়ে রেজুলেশন খাতায় স্বাক্ষর নেন। প্রতিবাদ করলেও ভয়ভীতি দেখান। এলাকার প্রকৃত দুস্থ্যদের বঞ্চিত করে নিজের বোন ও আত্মিয় স্বজনের নামে তিনি ভিজিডি, ভিজিএফ ও খাদ্যবান্ধব কর্মসূচীর রেশন কার্ড করে আত্মসাত করছেন। প্রকৃত দুস্থরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

সরেজমিনে বিষয়টি তদন্তকালে গ্রামবাসী বলেন, ২ নং হালিম মাতুব্বরের ডাঙ্গির শিশু তালুকদার নামে এক প্রবাসীর স্বচ্ছল পরিবারকে দুর্নীতির মাধ্যমে আশ্রয়ন প্রকল্পের ঘর করে দেন তিনি। অথচ এলাকার অনেক হতদরিদ্র পরিবার সামান্য খাদ্য সহায়তাও পাচ্ছে না।

রেজিয়া বেগম (৪৩) নামে এক নারী বলেন, তার জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ইউপি চেয়ারম্যান গোপনে ভিজিডি কার্ড করে নিজের লোক দিয়ে চাল তুলেছেন।

সুরাইয়া আক্তার (৪০) বলেন, তার নামের শিশু কার্ড তাকে না দিয়ে চেয়ারম্যান নিজের লোক দিয়ে সহায়তা তুলছেন।

হতদরিদ্র ও নদী ভাঙনের শিকার ইমানউদ্দিন মাতুব্বর (৮৫) বলেন, এই বৃদ্ধ বয়সে তিনি কাজ করে খান। কিন্তু তাকে কোনো কার্ড করে দেয়নি বারবার বলার পরেও।

আলেম হাওলাদারের কান্দি গ্রামের কলম হাওলাদার বলেন, তার গর্ভবতী স্ত্রীকে কার্ড করে দেয়ার কথা বলে চেয়ারম্যান ৫ হাজার টাকা চায়। তিন হাজার টাকা দিয়েছেন আত্মিয় লাল মাতুব্বরের মাধ্যমে। কিন্তু কার্ড পাননি আজো।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী চার নাসিরপুরের কামরুল ইসলাম (২৭) বলেন, বারবার নদী ভাঙ্গনের শিকার এইসব মানুষ ও তাদের জীবন জীবিকার স্বার্থে এসব অভিযোগ সঠিকভাবে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার জোর দাবি জানাচ্ছি।

এ ব্যাপারে জানতে ইউপি চেয়ারম্যান আক্কাস আলীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি দুর্নীতি ও অনিয়মের সব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, মান অভিমানের কারণে তার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ করেছেন মেম্বারেরা। নিজের পরিজনদের কার্ড দেয়ার ব্যাপারে তিনি বলেন, যারা পাওয়ার দাবিদার তাদেরই দিয়েছি। তবে সবাইকে তো আর দেয়া সম্ভব না। আশ্রয়ন প্রকল্পে স্বচ্ছল শিশু তালুকদারের ঘর প্রাপ্তির ব্যাপারে তিনি বলেন, ওই ব্যক্তির ছেলে বিদেশ থাকে কিন্তু পরিবারটি তখন স্বচ্ছল ছিলো না। এলাকাবাসীর দাবিতেই তাকে ঘর করে দিয়েছি।

সদরপুরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পূরবী গোলদার বলেন, বিষয়টি তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News