মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:০৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

পেকুয়ায় স্লুইচ গেইট বন্ধ রেখে পানি নিষ্কাশনের প্রতিবন্ধকতা অভিযোগ

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১২ জুন, ২০২০, ১১.৫৯ পিএম
  • ১১৭ বার পঠিত

পেকুয়া (কক্সবাজার) প্রতিনিধি
কক্সবাজারের পেকুয়ায় পাউবো’র স্লুইচ গেইট বন্ধ রেখে পানি চলাচলে প্রতিবন্ধকতার অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক প্রভাবশালী মহলের বিরুদ্ধে। অবিলম্বে স্লুইচ গেইট খোলে না দিলে চলিত বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা ছোট বড় পুকুর মৎস্য ঘের চিংড়িঘের ও গ্রামীণ সড়ক সহ তলিয়ে যাবে পুরো এলাকা। ফলে চরম দুর্ভোগের সম্মুখীন হবে এলাকাবাসী। এ নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে ক্ষোভ আর হতাশা দেখা দিয়েছে। স্লুইচ গেইট বন্ধ রাখায় ছয় জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ এনে নির্বাহী প্রকৌশলী পানি উন্নয়ন বোর্ড কক্সবাজার ও পেকুয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর অভিযোগ দায়ের করেছেন রাজাখালী ইউনিয়নের সাবেক ইউপি সদস্য হোসাইন শহীদ সাইফুল্লাহ। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন কোন এলাকায় পানি উন্নয়ন বোর্ড পাউবো’র ১০নং স্লুইচ গেইট বন্ধ রাখাই পানি নিষ্কাশন করা যাচ্ছে না। ফলে একদিকে মৎস্যচাষী অন্যদিকে লবণ চাষিদের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। বুধবার সকালে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় পানি উন্নয়ন বোর্ডের ওই স্লুইচ গেইট বন্ধ করে সাগরের লোনা পানি ভিতরে প্রবেশ ও বাহিরে নিষ্কাশনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। স্থানীয়রা জানায়, সুইস গেইট টি গত ছয় মাস ধরে বন্ধ থাকায় মৎস্য ও লবণ চাষীদের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। এদিকে পানি সেচ সুবিধা নিশ্চিত না হলে এসব জমি পানির অভাবে অনাবাদি হয়ে যাবে। এতে বিপাকে পড়বে জমির মালিক ও লবণ চাষিরা। অন্যদিকে চলিত বর্ষার মৌসুমে জলাবদ্ধতা সম্ভাবনা রয়েছে। দ্রুত ওই স্লুইচ গেইটটি খুলে দিলে এলাকায় সর্বক্ষেত্রে লাভবান হবে এমনই প্রত্যাশা এলাকাবাসীর। সাবেক ইউপি সদস্য সাইফুল্লাহ জানান, আমি একজন বর্গাচাষী। রাজাখালী মৌজা নতুন কোন এলাকার দারফ আলী চৌধুরী গোনার একসনা নিয়ে লবণ ও মৎস্য চাষ করে আসছি। সম্প্রতি পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৪/বি ফোল্ডারের ১০নং স্লুইচ গেইট ও এলজিইডির অর্থায়নে নির্মিত কালভার্ট বিগত কয়েক মাস ধরে বন্ধ রেখেছে। রাজাখালী ইউনিয়নের নতুন ঘোনা এলাকার মৃত শাহ আলমের ছেলে মোহাম্মদ ইসহাক, মৃত কালা মিয়ার ছেলে কামাল হোসাইন, আব্দুল হামিদ, হেদায়েত রহমানের ছেলে শাহাব উদ্দিন, নাগু মিয়ার ছেলে ফজল করিম ও বামুলা পাড়ার মৃত অলিউল্লাহ ছেলে গিয়াস উদ্দিনসহ একটি চাঁদাবাজ সিন্ডিকেট ওই স্লুইচ গেইট দখলে নেয়। জনস্বার্থে স্লুইচ গেইট খুলে দিতে অনেকবার বলা হয়েছিল। তাদের চাহিদা অনুসারে চাঁদা না দেওয়ায় স্লুইচ গেইট ও কালভার্ট বন্ধ রাখে। বিষয়টি পেকুয়া থানা কে অবগত করা হয়েছে। এদিকে গত ৮ জুন সকাল দশটার দিকে স্লুইচ গেইট খুলে দেওয়ার জন্য গেলে বিবাদীরা মারমুখী অবস্থানে থাকায় স্লুইচ গেইট ও কালভার্টটি খুলে দেওয়া সম্ভব হয়নি। স্থানীয় এলাকাবাসী পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় এরা আমাকে প্রাণে মেরে ফেলার হুমকি দিচ্ছে। অভিযুক্ত শাহাবুদ্দিন বলেন, এখানে চাঁদা আদায়ের কোন বিষয় থাকতে পারে না। পানি উন্নয়ন বোর্ডের ৬৪/বি ফোল্ডারের স্লুইচ গেইটটি বেশ কয়েক বছর আগেই বিধ্বস্ত হয়ে যায়। এরপর ২০১৯ সালের অক্টোবর মাসের শেষের দিকে পানি উন্নয়ন বোর্ডের জায়গা থেকে কিছু দূরবর্তী স্থানে আমাদের জমিদার মোহাম্মদ হানিফ চৌধুরীর নিজস্ব অর্থায়নে নাশী বসানো হয়েছে । প্রায় ৬ লক্ষ টাকা ব্যয়ে স্থাপন করা হয় । ওই দিয়ে পানি ঢুকানো বাহির করা হয়।
এ বিষয়ে পেকুয়া থানার ওসি তদন্ত মিজানুর রহমান বলেন, দুই জমিদারের লোকজনের মধ্যে নাসি বন্ধ রাখা নিয়ে বাকবিতন্ডা চলছে। পানি বন্ধ রাখার ক্ষমতা কারো নেই। রাখলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাঈকা সাহাদাত জানান পানি উন্নয়ন বোর্ডের স্লুইচ গেইট কেউ বন্ধ রাখতে পারে না। লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News