সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৪৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মোহাম্মদ হোসাইন এর এতিম দু শিশুর জন্য পূণর্বাসন ফাউন্ডেশন গঠন ও সহায়তা প্রদান; চলাচলের অনুপযোগী দোয়ারাবাজারের লাফার্জ ক্যাম্পের সামনের সড়ক: বেড়েই চলছে জনদূর্ভোগ  ধুনটে কনস্টেবল জগদীশ চন্দ্রকে অবসরকালীন বিদায় জানালো থানা পুলিশ খুলনা বিভাগে করোনায় ১৯ জনের মৃৃত্যু টেকনাফে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক রোহিঙ্গা উদ্ধার টানা বৃষ্টিতেপ্লাবিত কয়রা উপজেলা। করোনায় খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ৩৪ জনের মৃৃত্যু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের 1 বছর একশত ১৫ দিন পার হলো বৃহস্পতিবার  বদরখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গণির আকষ্মিক মৃত্যুতে এমপি জাফর আলম বিএ অনার্স এম এ এর শোক চকরিয়ায় চলাচলের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় পথচারীদের হাঁটতে দারুণ ভোগান্তি 

দয়াকরে বেসরকারি শিক্ষক-কর্মচারিদের পাশে দাঁড়ান

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৬ জুলাই, ২০২০, ২.৪৭ এএম
  • ৩৩৬ বার পঠিত

সকল প্রাথমিক বিদ্যালয় জাতীয়করণের দাবী

এম, রিদুয়ানুল হক (শিক্ষক, সংবাদকর্মী ও মানবাধিকারকর্মী)
প্রাথমিক বিদ্যালয়ঃ করোনায় আর্থিক অভাব-অনটন ও কষ্টে আছেন বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মচারিরা। যদিও মানুষ গড়ার কারিগর এসব শিক্ষকরা সারা বছরই আর্থিক অভাবে থাকেন। শিক্ষকতার পাশাপাশি জীবিকা নির্বাহের জন্য এসব শিক্ষকরা খণ্ডকালীন কাজ, ক্ষুদ্র ব্যবসা, টিউশন, কৃষিকাজসহ বিভিন্ন কাজের সঙ্গে জড়িত থেকে জীবিকা নির্বাহ করেন। বর্তমানে করোনাভাইরাসের কারণে তাদের বিকল্প আয়ের উৎসগুলো বন্ধ রয়েছে। ফলে চরম দুঃখ-দুরবস্থা, আর্থিক টানাপোড়েনে আছেন এসব শিক্ষকরা।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন শিক্ষক বলেছেন, সারা বছর শিক্ষকতার পাশাপাশি প্রাইভেট পড়িয়ে, বিকালে খণ্ডকালীন কাজ করে, বাসাবাড়িতে টিউশনি, ইজিবাইক চালিয়ে কোনো রকম পরিবারের খরচ সামাল দেই। করোনার লকডাউনে এখন বিকল্প আয়ের উৎস বন্ধ রয়েছে। পরিবারে অভাব অনটন চলছে। ইতোমধ্যে ছুটি ৬ আগস্ট পর্যন্ত ঘোষণা করা হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হলে ধাপে ধাপে ছুটি আরো বাড়তে পারে। তাতে পরিবার-পরিজন নিয়ে আরো করুণ অবস্থায় দিনাতিপাত করতে হতে পারে।

বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক সমিতির নেতারা বলেছেন, বর্তমানে করোনা সংকটকালীন সময়ে শিক্ষকরা আর্থিক দৈন্যদশার মধ্যে আছেন। আমরা শিক্ষকদের অভাব-অনটন ও কষ্টের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বরাবর একটি খোলা চিঠি দিয়েছি।

এ ব্যাপারে সংগঠনটির সভাপতি মো. মামুনুর রশিদ খোকন বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরেই সরকারের আর্থিক সহযোগিতা ছাড়াই শিক্ষার্থীদের পাঠদান করে আসছি। জীবিকার জন্য অন্য কাজ করতে হতো। করোনার কারণে এখন তাও বন্ধ রয়েছে। এ অবস্থায় সরকার প্রধান আমাদের প্রতি সদয় না হলে স্ত্রী-সন্তান, বাবা-মা, ভাই-বোন নিয়ে অনাহারে থাকতে হবে। তাই প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কাছে আমরা বিশেষ আর্থিক প্রণোদনাসহ পরবর্তীতে জাতীয়করণের জন্য হস্তক্ষেপ কামনা করছি।

সকল শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানঃ সরকারি শিক্ষকরা নির্দিষ্ট সুযোগ-সুবিধা ভোগ করলেও বেসরকারি শিক্ষকদের মোকাবেলা করতে হয় রকমারি সমস্যা। বর্তমানে চরম আর্থিক সংকটে আছেন বেসরকারি শিক্ষকরা। এমপিওভুক্ত শিক্ষক কর্মচারীরা যে বেতন-ভাতা পান তা দিয়ে হয়ত কোন রকম চলে যাচ্ছে কিন্তু নন-এমপিও বেসরকারি (বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজ/মাধ্যমিক/কেজি/প্রাইমারি/মাদ্রাসা ইত্যাদি) শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক লাখ শিক্ষক কর্মচারি অর্থসংকট উৎকণ্ঠা ও অনিশ্চয়তার মধ্যে সময় পার করছেন। স্কুল-কলেজ মাদ্রাসা, কারিগরি, বিশ্ববিদ্যালয়সহ বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক কর্মচারীদের সঙ্গে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।

বিভিন্ন মিডিয়াতে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশে মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষার প্রায় ৯৭ শতাংশ বেসরকারি ব্যবস্থাপনা নির্ভর। এর মধ্যে এমপিওভুক্ত প্রায় ২৮ হাজার, স্বীকৃতিপ্রাপ্ত এবং স্বীকৃতিবিহীন আরো প্রায় দশ হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এর বাইরে রয়েছে অসংখ্যা কেজি/প্রাথমিক বিদ্যালয়/মাদ্রাসা।

হাতে গোনা কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারীদের ভালো বেতন-ভাতা দিলেও অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের শিক্ষক-কর্মচারি বেতন থেকে বঞ্চিত বলে অভিযোগ রয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্ত প্রায় ৫ লাখ এবং নন-এমপিও এক লাখের বেশি শিক্ষক কর্মরত আছেন। এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা সরকার থেকে বেতন-ভাতার কিছু অংশ পেলেও নন-এমপিও শিক্ষক কর্মচারীরা কিছুই পান না। তারা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে নামমাত্র কিছু বেতন পেয়ে থাকেন। কোথাও কোথাও তাও পান না। টিউশনি-কোচিং করে জীবিকা নির্বাহ করেন। চলমান পরিস্থিতিতে শিক্ষার্থীদের টিউশন ফিও বন্ধ। এমতাবস্থায় অনেক প্রতিষ্ঠান শিক্ষকদের বেতন- ভাতা পরিশোধ করছে না। ফলে তাঁরা চরম আর্থিক সংকট ও দুরাবস্থায় আছেন। ঈদে বেতন বোনাস পাবেন কিনা এ নিয়ে তাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা রয়েছে।

এ বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী জানিয়েছেন, ঈদের আগেই বেতন ভাতা পাবেন এমপিওভুক্ত শিক্ষকরা। নতুন এমপিওভুক্তির জন্য নির্বাচিত ১ হাজার ৬৩৩ টি স্কুল-কলেজের শিক্ষকদের এমপিও মে মাস থেকে কার্যকর করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। এ নিয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতর কাজ করছে। দেশের উচ্চমানের কয়েকটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় তাদের শিক্ষক কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করলেও অনেক বিশ্ববিদ্যালয় বেতন পরিশোধ করা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছে।

বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রধানের সাথে কথা বলে জানা গেছে, শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে অর্থ আদায় না হলে আমাদের কিছু করার ক্ষমতা নেই। এ কারণে বেতন পরিশোধ অসম্ভব।

সংশ্লিষ্টরা বলেন, করোনার প্রভাবে হাজার হাজার শিক্ষক-কর্মচারী চরম আর্থিক কষ্টে দিনযাপন করছেন। শর্ত শিথিল করে হলেও চলতি বাজেট থেকে কমপক্ষে আরও তিন হাজার নন-এমপিও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে অবিলম্বে এমপিওভুক্ত করার জন্য প্রধানমন্ত্রীর আন্তরিক সহযোগিতা কামনা করছি। এতে শিক্ষকদের অসন্তোষ কমবে, শিক্ষার গুণগতমান উন্নয়ন ঘটবে। বেসরকারি শিক্ষকরা চরম আর্থিক দুরবস্থায় আছেন। মানুষ গড়ার কারিগর এই শিক্ষকদের ভাগ্যের উন্নতি না হলে দেশের উন্নয়ন অসম্ভব। শর্ত শিথিল করে হলেও এমপিওভুক্তি এবং সংকটকালীন প্রণোদনার দাবি জানানো হয়েছে শিক্ষকদের পক্ষ থেকে। শিক্ষাকে তুলনা করা হয় জাতির মেরুদন্ডের সঙ্গে।

শিক্ষকদের সমস্যায় রেখে সুগঠিত মেরুদন্ড পাওয়া সম্ভব নয়। শিক্ষকদের দুঃখ লাঘবে সরকার দ্রুত পদক্ষেপ নেবে বলেই আমাদের প্রত্যাশা।

নোটঃ বিভিন্ন সূত্র হতে কিছু বক্তব্য এখানে যুক্ত করা হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost