রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৭:৫৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি- পানির নিচে গ্রাম ও শহর-

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২ অক্টোবর, ২০২০, ৮.৪০ পিএম
  • ২২৮ বার পঠিত

গাইবান্ধায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি- পানির নিচে গ্রাম ও শহর-

দৈনিক এটিএম নিউজ গাইবান্ধা-
টানা বর্ষণ আর উজানের পানিতে তলিয়ে গেছে গাইবান্ধার পাঁচ উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা,পানির নিচে গ্রাম, শহর, হাসপাতাল, মহাসড়ক,ডুবে গেছে ফসলের মাঠ,পানিতে ভেসে গেছে পুকুর ও খামারের মাছ,সুন্দরগঞ্জ ও পলাশবাড়ীতে ভেঙেছে বাঁধ, সবমিলিয়ে গাইবান্ধায় সার্বিক বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে।

পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় ফুলে ফেঁপে উঠেছে জেলার সব নদ-নদী,গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণ আর উজান থেকে নেমে আসা ঢলে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার উপর দিয়ে প্রবাহিত করতোয়া নদীর পানি দুই দশকের রেকর্ড ভেঙ্গে বিপদসীমার ১১৬ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ পৌরসভা ও ১৩টি ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়েছে।

ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় থেকে দিনাজপুর সড়কে ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে বন্যার পানি ওঠায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা।

এদিকে ঘাঘট নদীর পানি বিপদসীমার ২০ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যার কবলে পড়ে সুন্দরগঞ্জ উপজেলার বামনডাঙ্গা ও সর্বানন্দ ইউনিয়নের অর্ধলক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। নিম্নাঞ্চল তলিয়ে এখন উঁচু এলাকায় প্রবেশ করছে পানি। উপজেলার সর্বানন্দ ইউনিয়নের দক্ষিণ সাহাবাজ (মতিন বাজার) গুচ্ছ গ্রামে স্থানীয়দের নির্মিত বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ধ্বসে গিয়ে প্লাবিত হয়েছে গ্রামের পর গ্রাম,ভেসে গেছে সহস্রাধিক পুকুর ও মৎস খামারের কোটি টাকার মাছ।

এছাড়া পলাশবাড়ী উপজেলার কিশোরগাড়ী ইউনিয়নে টোংরারদহ এবং সুলতানপুর বড়বাড়ী নামক স্থানে করতোয়া নদীর উপর পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ ভেঙ্গে বন্যায় প্লাবিত হয়েছে উপজেলার কিশোরগাড়ি ও হোসেনপুর ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা। অপরদিকে ঘাঘট নদীর পানি বৃদ্ধির ফলে সাদুল্লাপুর উপজেলার নলডাঙ্গা, রসুলপুর, কামারপাড়া এবং সদর উপজেলার বল্লমঝাড় ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে।

গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ড জানিয়েছে, শুক্রবার ২’অক্টোবর দুপুর ১২ টায় করতোয়া নদীর পানি ১১৬ সেন্টিমিটার, ঘাঘট নদীর পানি ২৬ সেন্টিমিটার ও ব্রহ্মপুত্রের পানি ৫ সেন্টিমিটার বিপদসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তবে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকলেও তিস্তার পানি এখনও বিপদসীমার ৬৪ সেন্টিমিটার নিচে রয়েছে।

গোবিন্দগঞ্জ উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, ইতোমধ্যে বন্যার পানিতে গোবিন্দগঞ্জ উপজেলায় ২হাজার ৭৮০ হেক্টর জমির আমনধান, ২১০ হেক্টর জমির শীতকালীন শাকসবজি সহ প্রায় তিনহাজার হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়ে গেছে।

জানা যায়, গোবিন্দগঞ্জের বন্যার্ত মানুষের সহায়তার জন্য উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দেড় হাজার মানুষকে ত্রাণ সহায়তা দেয়া হয়েছে। এছাড়া ২শ’ মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণ করা হয়েছে। বন্যা পরিস্থিতি মোকাবেলায় ইতোমধ্যে ৬টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। বন্যা কবলিত এলাকাগুলোতে সার্বক্ষণিক খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে। যে কোন ধরণের পরিস্থিতি মোকাবেলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি রয়েছে।

এদিকে বন্যার পানি দ্রুত বৃদ্ধি পেয়ে ঢাকা-দিনাজপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের ৩টি অংশ বন্যার পানিতে ডুবে যাওয়ায় দুর্ঘটনার আশংকায় বৃহস্পতিবার দুপুর থেকে গোবিন্দগঞ্জ থানামোড় হয়ে চলাচলকারী সকল প্রকার ভারী যানবাহন চলাচল বন্ধ করে দেয়া হয়েছে বলে গাইবান্ধা সড়ক ও জনপথ বিভাগ সুত্রে জানা গেছে।

অপরদিকে গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় বাঁধ ভেঙ্গে বন্যায় প্লাবিত দুর্গত এলাকা পরিদর্শন করলেন স্থানীয় সংসদ সদস্য এ্যাড.উম্মে কুলসুম স্মৃতি। বৃহস্পতিবার ১’অক্টোবর সকালে প্রশাসনিক কর্মকর্তা ও দলীয় নেতৃবৃন্দকে সাথে নিয়ে বাংলাদেশ কৃষকলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির সাধারণ সম্পাদক ও গাইবান্ধা-৩ (সাদল্লাপুর-পলাশবাড়ী) আসনের সংসদ সদস্য এ্যাড. উম্মে কুলসুম স্মৃতি দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ করেন।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News