সোমবার, ০২ অগাস্ট ২০২১, ১২:০৩ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মোহাম্মদ হোসাইন এর এতিম দু শিশুর জন্য পূণর্বাসন ফাউন্ডেশন গঠন ও সহায়তা প্রদান; চলাচলের অনুপযোগী দোয়ারাবাজারের লাফার্জ ক্যাম্পের সামনের সড়ক: বেড়েই চলছে জনদূর্ভোগ  ধুনটে কনস্টেবল জগদীশ চন্দ্রকে অবসরকালীন বিদায় জানালো থানা পুলিশ খুলনা বিভাগে করোনায় ১৯ জনের মৃৃত্যু টেকনাফে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক রোহিঙ্গা উদ্ধার টানা বৃষ্টিতেপ্লাবিত কয়রা উপজেলা। করোনায় খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ৩৪ জনের মৃৃত্যু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের 1 বছর একশত ১৫ দিন পার হলো বৃহস্পতিবার  বদরখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গণির আকষ্মিক মৃত্যুতে এমপি জাফর আলম বিএ অনার্স এম এ এর শোক চকরিয়ায় চলাচলের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় পথচারীদের হাঁটতে দারুণ ভোগান্তি 

কু-খ্যাত চোর হামিদ বোল্ড আউট- বেতার এখন চোর মুক্ত !

  • আপডেট টাইম : শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২০, ১১.৩৫ পিএম
  • ১২৯ বার পঠিত

অনলাইন ডেস্ক

দূর্ণীতির মাস্টার মাইন্ড এবং বাংলাদেশ বেতারের প্রকৌশলীদের বড় একটি দূর্ণীতিবাজ সিন্ডিকেটের মুল হোতা মোঃ হামিদুর রহমান,উপ-পরিচালক(প্রশাসন ও অর্থ) কে বাংলাদেশ বেতার ঠাকুরগাঁও কেন্দ্রে বদলী করা হয়েছে।

এই হামিদুর রহমান এবং বাংলাদেশ বেতারের অধিকাংশ প্রকৌশলীরা মিলে গড়ে তুলেছে দূর্নীতির বিশাল এক সিন্ডিকেট। সুইপার থেকে শুরু করে অফিসার পর্যন্ত কেউ রেহাই পায়নী এদের রোশানল থেকে।

এমনি একজন ভুক্তভুগীর নাম হচ্ছে সাজু আহমেদ। বর্তমানে তিনি বাংলাদেশ বেতার, কক্সবাজার কেন্দ্রে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মূদ্রাক্ষরিক পদে কর্মরত আছেন।

জানাগেছে ২০১৪ সালে জনাব সাজু আহমেদ মেধার মাধ্যমে বাংলাদেশ বেতারে অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার মুদ্রাক্ষরিক পদে রাজস্ব খাতে যোগদান করেন। প্রথম যোগদান করেন- কৃষি বিষয়ক কার্যক্রম, বাংলাদেশ বেতার, আগারগাঁও ঢাকা কেন্দ্রে। যোগদানের পর অফিসের কর্মকর্তাদের মন জয় করেন সাজু আহমেদ নিজের কর্ম দক্ষতা দিয়ে।

৭দিনের মাথায় রাশিদা নামের আর এক কর্মচারী কৃষি বিষয়ক কার্যক্রমে আসেন এবং সাজু আহমেদ কে বদলী করা হয় আঞ্চলিক প্রকৌশলীর দপ্তর, বাংলাদেশ বেতার, শাহবাগ, ঢাকা কেন্দ্রে।

সেখান থেকে সাজু আহমেদ বদলী নিয়ে আসেন বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রে। এখানেও তেনাকে আঞ্চলিক প্রকৌশলীর অধিনে দেয়া হয়। বাংলাদেশ বেতার রংপুর কেন্দ্রের সাবেক আঞ্চলিক প্রকৌশলী মোঃ আতিয়ার রহমান একজন অসাধু অফিসার ছিলেন। তিনি প্রায়াশই সাজু আহমেদ কে বিভিন্নভাবে মানসিক টরচার করতেন। এরই ধারাবাহিকতায় তিনি পবিত্র হজ্ব পালন করেন। হজ্ব করে এসেই তিন ড্রাম তেল চুরি করেন। এই তেল চুরির বিল-ভাউচার সংগ্রহ করার জন্য সাজু আহমেদ কে দায়িত্ব প্রদান করেন আতিয়ার সাহেব কিন্তু অপারগতা স্বীকার করেন সাজু আহমেদ । এই কাজের স্বাক্ষী বাংলাদেশ বেতার, রংপুর কেন্দ্রের সকল কর্মচারী ।

এই বিল ভাউচার নিয়ে সাজুর সাথে আতিয়ার রহমানের কথাকাটাকাটি হয় । রাতারাতি দূর্নীতিবাজ হামিদুরকে দিয়ে সাজু আহমেদ কে স্টান্ড রিলিজ করে বদলী করা হয় মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র, বাংলাদেশ বেতার, ধামরাই, ঢাকা কেন্দ্রে। বিভিন্ন মিথ্যা অপবাদ দিয়ে, দেয়া হয় বিভাগীয় মামলা।

এখানেই শুরু হলো দূর্নীতিবাজ হামিদুরের ধান্দাবাজি। এই বিভাগীয় মামলায় সাজু আহমেদের নিকট থেকে নেয়া হয় ২,৭০০০০/-(দুই লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা। এই টাকা হামিদুর রহমান গ্রহণ করেন- মহাশক্তি প্রেরণ কেন্দ্র বাংলাদেশ বেতারের গার্ড মাঈন উদ্দিন ও হামিদুরের দপ্তরের অফিস সহায়ক ফারুকের মাধ্যমে।

গ্রাম থেকে সুদের উপর ২,৭০০০০/-(দুই লক্ষ সত্তর হাজার) টাকা সংগ্রহ করেন সাজু আহমেদ। যার মাসিক সুদ দিতে হতো ২৭,০০০/-(সাতাশ হাজার) টাকা । অদ্যবোধি সেই টাকার সুদ পরিশোধ করতেছেন সাজু আহমেদ। কোন গ্রহণযোগ্য কারণ ছারাই একজন কর্সচারীকে এভাবে মানসিক ও আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্থ্য করা কতটুকু যুক্তিযুক্ত, তা ছেরে দিলাম বেতারের কর্তা ব্যাক্তিদের বিবেকের উপর।

এদিকে সাজুর পরিবারের উপর শত শত অভাব দেখা দেয়। সুদের টাকার জ্বালা, পারিবারিক অশান্তি সব মিলিয়ে স্টক করেন সাজু আহমেদ। সেযাত্রায় বেঁচে যান সাজু আহমেদ। এরই মধ্যে সাজুর শরীরে বাসা বেধেছে নানান রকম রোগ। হার্ডের সমস্যা, কিডনী রোগ, উচ্চ মাত্রার ব্লাড প্রেসার এবং ফ্যাটি লিভার। রংপুর কেন্দ্রে বদলীর আবেদন করেন সাজু আহমেদ। দাবী করা হয় আবারো ৫০০০০/- (পঞ্চাশ হাজার) টাকা। এদিকে বেতন-ভাতা বন্ধ করে রেখে দিয়েছে ৭মাস ধরে।

আবারো ৩০০০০/-(ত্রিশ হাজার ) টাকা সুদের উপরে নিয়ে, ফারুকের মাধ্যমে দেয়া হয় হামিদুর কে। বদলীর কথা ছিলো রংপুরে কিন্তু বদলী করা হলো ঠাকুরগাও কেন্দ্রে, তাও আবার সংযুক্তিতে।

ঠাকুরগাও কেন্দ্রে যোগদান করলেন সাজু আহমেদ। এরই মধ্যে আঞ্চলিক প্রকৌশলীর দায়িত্ব নিয়ে ঠাকুরগাও কেন্দ্রে যোগদান করেন জাইফুল ইসলাম নামের আর একজন দূর্নীতিবাজ প্রকৌশলী। ৬মাসে ২২লাখ টাকা হরিলুট করেন এই জাইফুল। আবারো বিল-ভাউচার নিয়ে কথা কাটাকাটি হয় জাইফুল ও সাজুর মধ্যে। সাজুর দাবি হলো ভুয়া বিল-ভাউচার তিনি করতে পারবেন না আর যদি করতে হয় তাহলে অফিস অর্ডার চান সাজু আহমেদ। অন্যায় কথা না শুনার কারনে রাতারাতি বদলী করা হলো জাতীয় বেতার ভবন, ঢাকায়। এবার অপবাদ দেয়া হলো সাজু আহমেদ জাইফুল ইসলামকে পিস্তুল ঠেকিয়ে ছিলো।

বিচার দিবেন কাকে- কারন যাকে বিচার দিবেন, তারাই হলো দূর্নীতির মাশি মা। ওনারাই বিচারক, ওনারাই তদন্তকারী, ওনারাই রায় প্রদানকারী। বেচারা সাজু আবার সংযুক্তিতে গেলেন ঢাকায়।

শুরু হলো নতুন নাটকের। প্রমোশন নাটক। অফিস সহকারীদের মধ্যে সিনিয়ারিটির ২নং তালিকায় সাজুর নাম। এসিআর প্রতিটি দপ্তর থেকে সাজু আহমেদ নিজে সংগ্রহ করে যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে প্রধান কার্যালয়ে পাঠালেও, তা হাওয়া হয়ে হারিয়ে যায়। হেড অফিসে সাজু র কাগজপত্র অদৃশ্য কারনে গায়েব করা হয়।

৩১ জনের মধ্যে ২নং স্থানে থেকেও সাজুকে প্রমোশন দেয়া হলো না। প্রমোশনের সময় সাজুর পরিবার থেকে ৩মাসের মাথায় ৩জন মৃতু বরণ করেন। তারপরেও সত্তুর হাজার টাকা হেড অফিসের সোহেলের মাধ্যমে হামিদুরকে প্রমোশন বাবদ দেয়া হয়। প্রমোশন না হওয়ায় ঐ সত্তুর হাজার টাকা সোহেলের নিকট ফেরৎ চাইতে গেলে ঘটে যায় আর এক বদলী নাটক।

কেন টাকা ফেরৎ চাইলো সাজু, সঙ্গে সঙ্গে বদলী করা হলো বাংলাদেশ বেতার কক্সবাজার কেন্দ্রে। মজার বিষয় হলো ধামরাই টু ঠাকুরগাও, ঠাকুরগাও টু জাতীয় বেতার ভবন, জাতীয় বেতার ভবন টু কক্সবাজর- এসব স্থানে জনস্বার্থে সংযুক্তিতে বদলী করা হলেও দেয়া হয়নী বদলী জনীত টিএ,ডিএ বিল।

এতসব অত্যাচার সহ্য করেও সাজু আহমেদ কক্সবাজার কেন্দ্রে যথা সময়ে কাজে যোগদান করেন। ২৪ডিসেম্বর-২০১৯ ইং তারিখে ৪দিনের ছুটি নিয়ে গ্রামের বাড়ি রংপুর চলে আসেন সাজু। ঘুরতে ঘুরতে সাজু আহমেদ এত বেশি ক্লান্ত যে, বাড়ি এসেই পড়ে যান আর এক নতুন রোগের মুখে। গ্রামের ভাষায় যাকে বলা হয় বোল্লা বসন্ত। এই রোগের সঠিক চিকিৎসা না হলে আক্রান্ত স্থানে পচন ধরে। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিনা চিকিৎসায় ধুকে ধুকে মরছেন সাজু আহমেদ। কারন মার্চ-২০২০ থেকে আবারো বেতন ভাতা বন্ধ।

সাজু অসুস্থ্য হওয়ার বিষয়টি মোবাইলে বার বার আঞ্চলিক পরিচালক কক্সবাজার মহোদয়কে জানানো হয় কিন্তু বিশ্বাস করেন না কর্তৃপক্ষ। অথচ সাজুর শরীরে এখন চলমান সেই বোল্লা বসন্ত। ছোঁয়াচে রোগ হওয়ায় অফিস যাইতে পারছেন না সাজু।

অবশেষে মার্চ-২০২০ থেকে করোনার কারনে সরকারী নির্দেশনা মোতাবেক সাজু বাড়িতে অবস্থান করছেন। করোনা সাজুর জন্য অত্যান্ত ঝুঁকিপূর্ণ- কারন- সাজু বর্তমানে-হার্ড রোগ,কিডনী রোগ, লিভার রোগ, উচ্চ রক্তচাপ ও বোল্লা বসন্ত রোগে আক্রান্ত। সর্বশেষ আঞ্চলিক পরিচালকের সাথে খুদে বার্তায় সাজুর কথা হয়- আঞ্চলিক পরিচালক মহোদয় সাজু কে জানান এই অবস্থায় কক্সবাজার আসার দরকার নাই, বাড়িতে থেকে আপনার মুল কর্মস্থলে যোগাযোগ করুন, কক্সবাজার লকডাউন চলছে। মুল কর্মস্থলে বেতন-ভাতার বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে কোন সদুত্তর পাওয়া যায়নী।

সম্প্রতি হামিদুর রহমানের ঠাকুরগাও বদলীর কথা শুনে সাজু আহমেদ বলেন- আমি তো এখন মৃত প্রায়। সুতরাং হামিদুরের নিকট থেকে টাকাগুলো আদায় করতে যদি বাকি জীবণ টুকু যায়, তা দিতে প্রস্তুত আমি ।

সূত্রঃ খোলা সংবাদ

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost