মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০২:৩৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কুষ্টিয়ায় অসহায়দের চার যুগের বসতবাড়ী গুড়িয়ে দিয়ে প্রভাবশালীর নামে বরাদ্দ

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ২৪ মার্চ, ২০২১, ৯.২৬ এএম
  • ৫১ বার পঠিত

কুষ্টিয়ায় অসহায়দের চার যুগের বসতবাড়ী গুড়িয়ে দিয়ে প্রভাবশালীর নামে বরাদ্দ

কুষ্টিয়া জেলা প্রতিনিধি আরাফাত হোসেন ॥ কুষ্টিয়া শহরের হাউজিং সি-ব্লকে ৯৩ নং প্লটের পশ্চিম পার্শ্বে ১.৩১৯ একর জমিতে ৬টি পরিবারের বসবাস। হঠাৎ গত ২১ মার্চ হাউজিং কর্তৃপক্ষ গুড়িয়ে দিয়েছে অসহায় এই ৬ পরিবারের ৪৫ বছর ধরে বসবাসের বসতি। ১৯৮৫ সাল থেকে সরকারের পতিত এই জমিতে বসবাস করে আসছিল অসহায় আরমান সহ ৬টি পরিবার। আরমান সওদাগর ২০১৮ সালে এই জমি বরাদ্দের জন্য জাতীয় গৃহায়ণ কর্তৃপক্ষ রাজশাহী বরাবর আবেদনও করেছিল। কিন্তু ক্ষমতা আর অসহায়ত্বের কারনে দীর্ঘদিনের বসবাসকৃত জমি বরাদ্দ পায়নি আরমান। পেয়েছেন তাদেরই প্রভাবশালী প্রতিবেশী আফজাল হোসেন। যদিও আফজাল হোসেন এই জমির বরাদ্দ পায় ২০২০ সালের ১৪ জুলাই। তার পরিপ্রেক্ষিতেই গত ২১ মার্চ কোন লিখিত নোটিশ ছাড়াই হাউজিং কর্তৃপক্ষ আফজাল হোসেনকে তার বরাদ্দকৃত জমি বুঝিয়ে দিতে নামে উচ্ছেদ অভিযানে। গুড়িয়ে দেওয়া হয় অসহায় ৬টি পরিবারের মাথা গোজার ঠাই। একমাত্র মাথা গোজার ঠাই হারিয়ে ধ্বংস স্তুপের মাঝে ৬টি পরিবারের এখন খোলা আকাশের নীচে বসবাস। এ যেন বাংলা সিনেমার কাহিনীকেও হার মানিয়েছে। তবে কি ক্ষমতা আর প্রভাবের কাছে অধিকার হারিয়েছে ৬টি পরিবার। হাউজিং কর্তৃপক্ষের এমন অমানবিক আচরণে জন্ম দিয়েছে সমালোচনার।

এদিকে আফজাল হোসেন তার বরাদ্দকৃত জমি পাকাপোক্ত করতে অসহায় ৬ পরিবারের নামে কুষ্টিয়া মডেল থানায় করেছেন জিডি। এ যেন অসহায় পরিবারের কাছে গোদের উপর বিষ ফোঁড়ার মতো।

এ বিষয়ে আরমান সওদাগর জানায়, আমরা ১৯৮৫ সাল থেকে সরকারের এই পতিত জমিতে বসবাস করে আসছি। হঠাৎ হাউজিং কর্তৃপক্ষ আমাদের কে কিছু না জানিয়ে আমাদের ঘর-বাড়ি গুড়িয়ে দিয়েছে। আমরা অসহায় তাই আমাদের মাথা গোজার ঠাঁই টুকুও কেড়ে নেওয়া হয়েছে। যাদের ক্ষমতা আছে সবাই তাদেরই পক্ষ নেয়। আমাদের কথা কেউ চিন্তা করে না।

এ বিষয়ে আফজাল হোসেন এর স্ত্রী জানায়, এই জমি আমরা বরাদ্দ নিয়েছি। তাই বরাদ্দের জমি প্রাচীর দিয়ে দখল করছি।

এ ব্যাপারে হাউজিং কুষ্টিয়ার সহকারি পরিচালক জানান, তিনি এই বিষয়টি অবগত নন। রাজশাহী থেকে বিষয়টি পরিচালনা করা হয়ে থাকতে পারে। বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য তিনি তার উর্দ্ধতন নির্বাহী প্রকৌশলীর কাছে যেতে বলেন। তাছাড়াও তিনি ক্যামেরার সামনে কথা বলতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইদুল ইসলাম জানায়, বিষয়টি আমি শুনেছি। অন্যায় কিছু হলে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News