রবিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২১, ০২:৫৪ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

“কুলাউড়ায় জুমের জমি উদ্ধারের পর ফের দখলের চেষ্টা, পুঞ্জিতে ভাংচুর”

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১১ নভেম্বর, ২০২০, ২.১৫ পিএম
  • ৭১ বার পঠিত

“কুলাউড়ায় জুমের জমি উদ্ধারের পর ফের দখলের চেষ্টা, পুঞ্জিতে ভাংচুর”

 

মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইছাছড়া খাসিয়াপুঞ্জিতে একটি পরিবারের পান চাষের পাঁচ একর জমি উদ্ধারের পর আবারও অবৈধভাবে দখল চেষ্টার অভিযোগ ওঠেছে। সোমবার (৯ নভেম্বর) সকালের দিকে কুলাউড়া উপজেলা প্রশাসন, র‌্যাব ও পুলিশবাহিনী দখলদারের কবল থেকে জমিটি অবৈধ দখলমুক্ত করে দেন। তবে সন্ধ্যার দিকে আবার সেই জমি দখলের চেষ্টা চালায় অবৈধ দখলদাররা। এসময় উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। ভাঙচুর চালানো হয় পুঞ্জিতে। তবে এ ঘটনায় কেউ হতাহত হননি।এদিকে হামলা-ভাঙচুরের খবর পেয়ে রাতেই জনপ্রতিনিধিসহ উপজেলা প্রশাসন ও পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।উপজেলা প্রশাসন ও পুঞ্জির বাসিন্দাদের সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের ইছাছড়াপুঞ্জিতে ৫২টি খাসিয়া পরিবার বসবাস করেন। ওই পুঞ্জির বাসিন্দা জেসপার আমলেংরং একটি পানের জুমে প্রায় পাঁচ একর জায়গায় পান চাষ করে আসছিলেন। গত ২৭ সেপ্টেম্বর রাতে কর্মধা ইউনিয়নের টাট্টিউলি গ্রামের বাসিন্দা দুবাই প্রবাসী রফিক মিয়ার নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন লোক দেশীয় অস্ত্র নিয়ে জেসপারের জুমে ঢোকেন। সেখানে পাহারার দায়িত্বে থাকা দুই ব্যক্তিকে তাড়িয়ে জুমটি দখল করে নেন। পরে রফিক মিয়াসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কুলাউড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) কাছে লিখিত অভিযোগ দেন জেসপার আমলেংরং। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য দু’পক্ষকে নিয়ে বসার চেষ্টা করা হয়। কিন্তু অভিযুক্ত রফিক মিয়া সমাধানের জন্য আসেননি এবং কোনো কাগজাদি দেখাননি। পরে বিরোধপূর্ণ ওই ভূমির রফিক মিয়ার দাবিকৃত দলিল ও কাগজাদি সঠিকতা যাচাইয়ের জন্য ঢাকা সদর সাব-রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে পাঠানো হয়। সেখানকার রেকর্ড রুমের সাব-রেজিস্ট্রার মো. জাহিদ হোসেন স্বাক্ষরিত পত্রের মাধ্যমে জানানো হয় ১৯৬৭ সালের ১১৪৪০ নং এবং ১৯৮২ সালের ৬৭৮২ নং দলিলগুলির কোনো সত্যতা পায়নি প্রশাসন।এরপর জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসানের নির্দেশনায় সোমবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরীর নেতৃত্বে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর লোকজন উচ্ছেদ অভিযান পরিচালনা করে ওই ৫ একর পান জুম উদ্ধার করে জেসপার আমলেংরংকে বুঝিয়ে দেন।অভিযানের সময় আদিবাসী পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনের সিলেট বিভাগের সমন্বয়ক ফাদার জোসেফ গোমেজ, আদিবাসীদের স্থানীয় সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং ও কর্মধা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) স্থানীয় ৩ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য সিলভেস্টার পাঠাং উপস্থিত ছিলেন।এদিকে সোমবার সন্ধ্যা সাতটার দিকে রফিক মিয়ার নেতৃত্বে প্রতিপক্ষের ৩৫/৪০ জন লোক লাঠি ও দেশীয় অস্ত্র নিয়ে পুঞ্জির আশপাশে অবস্থান নেন। এ সময় পুঞ্জির লোকজনের মধ্যে উত্তেজনা তৈরী হয়। এতে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায় ঘণ্টা খানেক পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। এতে পুঞ্জি এলাকায় অবস্থিত পুঞ্জির পুরাতন গির্জায় ভাঙচুর ও আসবাবপত্র তছনছের ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে খাসিয়াদের পক্ষ নেওয়ায় লাল মিয়া নামের স্থানীয় এক মুদিদোকানে হামলা-ভাঙচুর চালানো হয়।খবর পেয়ে রাত নয়টার দিকে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান এ কে এম সফি আহমদ সলমান, ইউএনও এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী, কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর, কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) বিনয় ভূষণ রায় এবং স্থানীয় কর্মধা ইউপি চেয়ারম্যান এম এ রহমান আতিকসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলে যান।প্রশাসনের উপস্থিতি টের পেয়ে হামলাকারীরা সটকে পড়েন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি রক্ষায় দখলমুক্ত ওই পাঁচ একর জমি স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের জিম্মায় দেওয়া হয়। এবং ওই ৫ একর ভূমিতে দু’পক্ষের কেউই যাতে প্রবেশ না করতে পারেন সেজন্য নির্দেশনা দেওয়া প্রশাসনের পক্ষ থেকে। বর্তমানে ওই পান জুমে পাহারার দায়িত্বে রয়েছেন ইউনিয়ন পরিষদের গ্রাম পুলিশ সদস্যরা।স্থানীয়ভাবে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে রফিক মিয়াকে পাওয়া যায়নি। এছাড়া তার মোবাইল নাম্বার না পাওয়ায় এ বিষয়ে তার কোনো বক্তব্য জানা যায়নি।ক্ষুদ্র জাতিসত্তা খাসিয়া ও গারো সম্প্রদায়ের সংগঠন কুবরাজের সাধারণ সম্পাদক ফ্লোরা বাবলি তালাং বলেন, ‘পান চাষের জমি দখলমুক্ত হওয়ার জের ধরে রফিক মিয়া এবং তাঁর পক্ষের লোকজন পুঞ্জিতে হামলা-ভাঙচুর চালান। এ ঘটনার পর থেকে পুঞ্জির লোকজন আতঙ্কে রয়েছেন। হামলা-ভাঙচুরের ঘটনায় পুঞ্জির লোকজনের পক্ষ থেকে আদালতে মামলা হবে।’কুলাউড়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সাদেক কাওছার দস্তগীর মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘খবর পেয়ে উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাসহ আমরা থানা পুলিশের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে যাই। বর্তমানে সেখানকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দুই পক্ষকে ওই পান জুমে না ঢুকতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী মঙ্গলবার সন্ধ্যায় বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে হামলায় জড়িত কোনো লোককে পাওয়া যায়নি। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির যাতে অবনতি না ঘটে, সে জন্য দখলমুক্ত জমি আপাতত স্থানীয় ইউপির চেয়ারম্যানসহ দুই ইউপির সদস্যের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে। দুই পক্ষ ওই জমিতে ঢুকতে পারবে না এবং গ্রাম পুলিশের সদস্যরা জমিটি পাহারা দেবেন। খাসিয়া পুঞ্জির লোকজনের নিরাপত্তায় ও অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সেজন্য প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News