রবিবার, ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৩:০০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

করোনা সংকট : কক্সবাজারে কঠোর লকডাউন

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ১০ জুন, ২০২০, ২.০৬ এএম
  • ১৫৪ বার পঠিত

এটিএম নিউজ, কক্সবাজারঃ
দেশের প্রথম ঘোষিত রেডজোন কক্সবাজার শহর। তাই বিচ্ছিন্নভাবে কক্সবাজার পর্যটন শহরে দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিনের লকডাউন চলছে। গত ৬ জুন থেকে কক্সবাজার শহর রেড জোনের আওতায় ১০টি ওয়ার্ডে লকডাউন শুরু হয়। এছাড়া পর্যায়ক্রমে চকরিয়া, উখিয়া ও টেকনাফ উপজেলাসহ আরো দুটো পৌরসভা রেড জোন চিহ্নিত করে চলছে লকডাউন।
প্রথমবারের সারা দেশের সাথে সম্পূরক লকডাউনের চেয়ে কক্সবাজার জেলায় বর্তমানে চলমান লকডাউনের চিত্র ভিন্ন। কঠোর’ ভাবে পালনে বাধ্য করা হচ্ছে চলমান লকডাউন‘!

কক্সবাজার জেলায় এ পর্যন্ত করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১০০৬ জন। এরই মধ্যো মারা গেছেন নারীসহ ২৫ জন।
এদিকে, এই লকডাউনে সপ্তাহে দুইদিন দরকারি দোকানপাট খোলা থাকলেও শহরে অন্যানয় দোকানপাটসহ সব ধরণের প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। করোনার জরুরী প্রয়োজন ব্যতীত বন্ধ রয়েছে সব ধরণের যানবাহন। ঘরে আবদ্ধ রয়েছে সব ধরণের মানুষ। এতে লকডাউনের সুফল পাওয়ার প্রত্যাশা করছে সচেতন মহল।

করোনা সংক্রমণ উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পাওয়ায় পর্যটন নগরী কক্সবাজার পৌর সভার ১০টি ওয়ার্ডকে রেড জোনভুক্ত করেছে প্রশাসন। ৫ জুন দিবাগত রাত ১২ টা থেকে দ্বিতীয় দফায় শহরে লক ডাউন শুরু হয়। শেষ হবে ২০ জুন রাত ১২ টায়। প্রাথমিকভাবে পৌরসভার ১২টি প্রশাসনিক ওয়ার্ডকে ‘রেড জোন’ হিসেবে চিহ্নিত করে শুক্রবার জরুরি নির্দেশনা জারি করেন জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন। একই সাথে ৭ জুন থেকে পর্যায়ক্রমে চকরিয়া ও টেকনাফ পৌরসভা ও উখিয়া উপজেলসকেও রেড জোন ভুক্ত করা হয় এবং সেখানেও লকাউন চলছে।
সরজমিনে পর্যটন শহর ঘুরে দেখা গেছে, জনসাধারণ এবং যানবাহন চলাচলের উপর জেলা প্রশাসনের নির্দেশনা কঠোরভাবে প্রয়োগ করা হচ্ছে। বিনা প্রয়োজনে জনসাধারণকে বাসার বাইরে না আসতে অনুরোধ করা হচ্ছে। মাঠে রয়েছে প্রশাসনের শক্তিশালী টিম।

একই সাথে কঠোরভাবে কাজ করছে জেলা প্রশাসনের নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবকরাও। মূলত এলাকা ভিত্তিক স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করায় এবার লকডাউনের কার্যকারিতা বেড়েছে বেশি। কারণ প্রশাসনের যৌথ টহল দল গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে মোতায়েন থাকলেও কিছুদূর দূরত্বে দূরত্বে অবস্থান নিয়েছে স্বেচ্ছাসেবকরা। ফলে শহরের প্রধান সড়কের প্রতিটি স্থান নিষেধাজ্ঞা বলবৎ রয়েছে। একই সাথে অভ্যন্তরীণ অলি-গলিতে জনসমাগম নিয়ন্ত্রণে কার্যকরভাবে কাজ করছে স্বেচ্ছাসেবকরা।

সরেজমিন আরো দেখা গেছে, সকাল থেকে রাত পর্যন্ত শহরের সব গুরুত্বপূর্ণূ পয়েন্টে সেনা, পুলিশ, বিজিবি, র‌্যাব ও আর্মড পুলিশের সদস্যরা নিয়োজিত রয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটদের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমান টিমও প্রতিনিয়ত টহল দিচ্ছে। সাথে নিকট দূরত্বে দূরত্বে স্বেচ্ছাসেকরা নিয়োজিত রয়েছে। এতে প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্য করে কোনো প্রতিষ্ঠান, দোকানপাট খুলতে পারছে না। একইভাবে যানবাহনও পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। ঘর থেকে বের হচ্ছে না লোকজনও। এর ফলে এক কঠোর লকডাউনের মধ্যে চলছে করোনা ভয়াবহ বিস্তার করা পর্যটন নগরী কক্সবাজারে।
সচেতন লোকজন বলছেন, বর্তমানে যেভাবে লকডাউন চলছে তাতে করে সংক্রমণের ঝুঁকি অনেক কমবে। তবে তার সাথে আক্রান্ত করোনা রোগীদের সঠিকভাবে নিয়ন্ত্রণও করতে হবে। কারণ তাদের মাধ্যমে নিকটজনদের সংক্রমিত হলে লকডাউনের সুফল ভেস্তে যাবে। তাই সে বিষয়টিও গুরুত্ব দেয়ার জন্য জেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের প্রতি আহবান জানিয়েছেন সচেতন মহল।

জেলা প্রশাসনের তথ্য মতে, কক্সবাজার জেলায় মোট করোনা আক্রান্ত রোগির সংখ্যা ১০০৬ জন। মারা গেছে ২৫ জন।
কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মোঃ কামাল হোসেন বলেন, দেশের প্রথম হিসেবে রেডজোন ঘোষণা করা কক্সবাজার শহর ও তিনটি উপজেলাকে দ্বিতীয় দফায় ১৪ দিনের লকডাউন করা হয়েছে। আশা করছি এই লকডাউন করোনা সংক্রমণ রোধে কার্যকরী ভুমিকা রাখবে। প্রয়োজন হলে লকডাউন আরো বাড়ানো হবে।
তিনি আরো বলেন, জনগণের সুরক্ষার জন্যই লকডাউন দেয়া হয়েছে। তাই সবাইকে বুঝতে বিষয়টি; লকাডাউনকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিয়ে ঘরে থাকতেই হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News