বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৯:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
চকরিয়ার সুরাজপুর-মানিকপুরে বন্যা দুর্গতদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ  ব্রেকিং নিউজ বাংলাদেশে করোনা আপডেট আজ বুধবার,  আজকে সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়নে একটি করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়। উখিয়া উপজেলা যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে মাদকাসক্ত মুজিব, ইয়াবা কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ করে খুলনা বিভাগে গত ২৪ ঘণ্টায় ৩৫ জনের মৃৃত্যু: সনাক্ত ৭৪৫ জন। জয়পুরহাটে সন্তানের খাবারের জন্য মা সন্তানকে দত্তক দিতে চায় চিত্র নায়িকা পরি মনির বাসায় RAB এর অভিযান। পরিবেশের বিপর্যয়: ৮ বছরের বাগান, ১০ লাখ লেবুসহ ৫ হাজার গাছ কেটে দিল বন বিভাগ ! দোয়ারাবাজারে পুলিশের অভিযানে চুরি হওয়া মহিষ বিক্রির টাকাসহ আটক ৩ ১০ আগস্ট পর্যন্ত চলমান লকডাউন বৃদ্ধি

করোনায় ঢাকাছাড়া ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ২২ জুন, ২০২০, ৯.২৮ পিএম
  • ১৩১ বার পঠিত
এটিএম নিউজ ডেস্ক

করোনার কারণে চাকরি বা ব্যবসা হারিয়ে অনেকেই ঢাকা ছেড়ে গ্রামে চলে গেছেন৷ চলে যেতে হতে পারে আরো অনেককে৷ ঢাকায় তাদের এখন আর কোনো কাজ নেই৷ তাই যেন আশ্রয়ও নেই৷

ঢাকার দক্ষিণ খান এলাকার কে সি মেমোরিয়াল স্কুল এন্ড কলেজে আইটি প্রধান হিসেবে চাকরি করেন নূর হোসেন৷ থাকতেন ওই এলাকারই এক বাসায়৷ ভাড়া দিতেন ৯ হাজার টাকা৷ আর মাসে বেতন পেতেন ১৬ হাজার টাকা৷ সঙ্গে আইটির কাজ করে বাড়তি কিছু উপার্জনও হত৷ স্ত্রী আর এক সন্তান নিয়ে তার সংসার৷ কিন্তু করোনা শুরুর পর বেতন কমিয়ে ৬৫ ভাগ দেয়া হয়৷ তাই তার পক্ষে আর বাসা ভাড়া দিয়ে ঢাকায় থাকা সম্ভব হয়নি৷ এক মাস আগে তিনি বাসা ছেড়ে দিয়ে স্ত্রী-সন্তানকে নিয়ে সাতক্ষীরা সদরে গ্রামের বাড়িতে চলে যান৷ নূর হোসেন বলেন, ‘‘গ্রামে আসার সময় পুরো ভাড়ার টাকা দিয়ে আসতে পারিনি৷ আরো ঢাকায় থাকলে আমার পক্ষে ভাড়া দেয়া সম্ভব হতো না৷”

আইটির লোক হওয়ায় তিনি এখনো কিছু বেতন পাচ্ছেন৷ গ্রামের বাড়িতে থেকেই কিছু কাজকর্ম করে দিচ্ছেন প্রতিষ্ঠানের৷ তবে সামনে আর বেতন পাবেন কিনা নিশ্চয়তা নেই৷ ২০১৩ সালে তিনি ঢাকা এসেছিলেন৷ করোনার কারণে ঢাকা ছাড়তে হয়েছে৷ আর ফিরতে পারবেন কিনা জানেন না৷ তিনি বলেন, ‘‘শুধু আমি একা নই, আমার সহকর্মীদের অনেকই টিকতে না পেরে গ্রামে চলে গেছেন৷”

‘এই শহর আমার হলো না’

ঢাকার মালিবাগে শহিদুর রহমানের একটি কিন্ডারগার্টেন স্কুল ছিলো৷ চতুর্থ শ্রেণি পর্যন্ত পড়াতেন৷ শিক্ষক ছিলেন ১০ জন৷ আর ছাত্র ১৫০ জন৷ ক্লাস না চললেও এপ্রিল পর্যন্ত তিনি স্কুলটি টিকিয়ে রেখেছিলেন৷ কিন্তু এরপর আর পারেননি৷ স্কুলের ভাড়া, শিক্ষকদের বেতন তার পক্ষে বহন করা সম্ভব ছিলনা৷ মে মাসে স্কুল স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেন৷ আর নিজেও জুনের ১০ তারিখ ঢাকা ছেড়ে সপরিবারে গ্রামের বাড়ি চলে যান৷ তিনি জানান,‘আমি আর ঢাকা ফিরবোনা৷ অনলাইন মার্কেটিং-এর কাজ জানি৷ আমার সাতক্ষীরা শহরে বসে সেটা নিয়েই কিছু করার চেষ্টা করছি৷ ঢাকা আমার শহর নয়৷ আমার শহর হয়নি৷ আমার হবে না।’

ঢাকার হাজারীবাগে থাকেন একটি বিজ্ঞাপনী সংস্থার মালিক আজাদ চৌধুরী৷ তিনি যে ফ্ল্যাটে থাকেন সেই ফ্লাটের দুইটি পরিবার বাসা ছেড়ে গ্রামের বড়িতে চলে গেছে গত মাসে৷ আশপাশ থেকে আরো সাত-আটটি পরিবার চলে গেছে৷ তিনি জানান,‘যারা চলে গেছেন তারা ছোটখাটো চাকরি বা ব্যবসা করতেন৷ মাসিক আয় ছিলো ২৫-৩০ হাজার টাকা৷ কিন্তু তাদের ব্যবসা বা চাকরি টিকে নাই৷ ঢাকায় বাসা ভাড়া দিয়ে তাদের পক্ষে আর থাকা সম্ভব ছিলনা৷ এতদিন আশায় ছিলেন যে হয়তো করোনা চলে গেলে সব ঠিক হয়ে যাবে৷’

ঘরের জিনিস বিক্রি করে ভাড়া দিচ্ছেন:
ভাড়াটিয়া পরিষদের হিসাব অনুযায়ী, এপর্যন্ত ঢাকার ৫০ হাজার ভাড়াটিয়া বাসা ছেড়ে গ্রামের বাড়িতে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে৷ আর তার চেয়ে আরো অনেক বেশি মানুষ আগের বাসা ছেড়ে দিয়ে কম ভাড়ার বাসায় উঠেছেন বা ওঠার চেষ্টা করছেন৷ যারা ১৫ থেকে ১৮ হাজার টাকায় ভাড়া থাকতেন তারা এখন আট-নয় হাজার টাকার ভাড়া বাসা খুঁজছেন৷ আর যাদের মাসে আয় ছিলো ২৫-৩০ হাজার টাকা তারা আর এই শহরে টিকতে পারছেন না৷

ভাড়াটিয়া পরিষদের সভাপতি বাহারানে সুলতান বাহার বলেন,‘এই পরিস্থিতি আরো খারাপ হওয়ার অশঙ্কা করছি৷ যারা ঢাকা ছেড়েছেন তারা চাকরি হারিয়েছেন, ব্যবসা হারিয়েছেন৷ আরো অনেকে হারাচ্ছেন৷ তাই আমরা দাবি করেছি এপ্রিল, মে, জুন এই তিন মাস যাদের সামর্থ্য নেই তাদের বাড়ি ভাড়া যে-কোনো উপায়ে মওকুফ করে দেয়া হোক৷ গ্যাস, বিদ্যুৎ, পানির বিল ও হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফ করা হোক৷’

ঢাকার বস্তিবাসীদের অবস্থাও খারাপ৷ তারাও কাজ হারিয়ে ভাড়া দিতে না পেরে শহর ছাড়ছেন৷ অনেককে ভাড়ার জন্য মারধরেরও অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে৷ আবার কেউ ঘরের আসবাবপত্র ও ব্যবহার্য জিনিস বিক্রি করেও ভাড়া শোধ করে চলে যাচ্ছেন৷

চাকরি আছে বেতন নাই:
করোনায় আন্তর্জাতিক অভিবাসন নিয়ে একটি গবেষণা জরিপের কাজ করছে ব্র্যাক৷ কাজ এখনও মাঝপথে থাকলেও তারা যেসব তথ্য পাচ্ছে তাতে মনে হচ্ছে নিম্নমধ্যবিত্তদের একটি বড় অংশ ঢাকা ছেড়েছেন৷ তাদের অবস্থা হচ্ছে ‘চাকরি আছে বেতন নাই অথবা ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেছে৷’

সিপিডি ও ব্র্যাকের গবেষণা বলছে, এরইমধ্যে সারাদেশে কম করে হলেও আরো নতুন করে পাঁচ কোটি মানুষ দারিদ্র্য সীমার নীচে নেমে গেছে৷ যারা আগে নিম্নমধ্যবিত্ত ছিলেন৷ ছোট চাকরি বা ক্ষুদ্র ব্যবসা করতেন৷ তাদের একটি বড় অংশের বসবাস ঢাকা শহরে৷

তবে ব্র্যাকের পর্যবেক্ষণ বলছে, করোনার শুরুর দিকে দিনমজুর ও রিকশাচালকদের যে খারাপ অবস্থা হয়েছিলো তার উন্নতি হচ্ছে৷ শ্রমিকরা কৃষি শ্রমিক হিসেবে কাজ করে উপার্জন করতে পেরেছে৷ এখন আবার তারা কিছু কাজ পাচ্ছে৷ কিন্তু পোশাক শ্রমিদের কাজ হারানো বাড়ছে৷ তারা গ্রামে চলে যাচ্ছেন৷ নন-এমপিও শিক্ষকরা কোনো বেতন পাচ্ছেন না৷ মাদ্রাসার শিক্ষকদের বড় একটি অংশ কষ্টে আছেন৷ মসজিদের ইমাম, মোয়াজ্জেম, খাদেমরাও ভালো নাই৷

ব্র্যাকের ঊর্ধ্বতন পরিচালক কে এ এম মোরশেদ বলেন,‘শহর ছেড়ে গ্রামে যাওয়া মানুষের সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে৷ তবে তাদের মধ্যে একটি অংশ অস্থির৷ তারা গ্রামে যান আবার শহরে ফিরে আসেন৷ আবার গ্রামে চলে যান৷ তাদের চাকরি আছে কিন্তু বেতন নাই৷ প্রতিষ্ঠান চালু হলে যদি আবার কাজ শুরু হয় তখন বেতন পাবেন এই আশায়৷

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost