রবিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২১, ০৮:৪০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :

কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ ফয়সাল হোসেন,,

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৪ জুলাই, ২০২১, ৮.০৩ পিএম
  • ৮২ বার পঠিত

কয়রা উপজেলা প্রতিনিধি মোঃ ফয়সাল হোসেন,,

 

খুলনার কয়রায় কপোতাক্ষের ভাঙনকবলিত স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন কোনোভাবেই থামছে না।

 

বালু উত্তোলনকে কেন্দ্র করে উপজেলার বিভিন্ন জায়গায় গড়ে তোলা হয়েছে বালু মজুদ ও বিক্রির ঘাট। আর এসব অবৈধভাবে গড়ে ওঠা ঘাটের বালু বহনকারী ট্রলি ও ট্রাক্টরগুলো বেপোরোয়াভাবে যাতায়াত করায় একদিকে যেমন হুমকিতে পড়েছে বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ, অপরদিকে গ্রামীণ সড়কগুলোও চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ছে। ফলে কয়রা সদরের একমাত্র মদিনাবাদ লঞ্চঘাটসংলগ্ন পন্টুনের নবনির্মিত যাতায়াত রাস্তা ও সদ্যনির্মিত পাউবোর বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। রোববার (৪ জুলাই) উপজেলা সদরের স্পর্শকাতর ভাঙনকবলিত মদিনাবাদ লঞ্চঘাট থেকে ড্রেজার দিয়ে বালু তোলা অবস্থায় বালু সন্ত্রাসী জাহাঙ্গীরকে আটক করেছে কয়রা থানা পুলিশ।

 

স্থানীয় ভুক্তভোগীরা বলেন, বালুর ব্যাপারে কথা বললেই চাপাতি ও হাতুড়ি নিয়ে জীবননাশের হুমকি দেয়। এর আগে একই স্থান থেকে বালু উত্তোলনের রিপোর্ট প্রকাশ করায় স্থানীয় সাংবাদিক সুভাষ দত্তকে পিটিয়ে জখম করে পঙ্গু করে দেয়া হয়। এ ব্যাপারে থানায় মামলাও হয়, যে কারণে সন্ত্রাসী বাহিনীর বিরুদ্ধে কারো মুখ খোলার সাহস নেই।

 

উপজেলা ভূমি অফিস সূত্রে জানা যায়, কয়রা উপজেলায় নির্দিষ্ট কোনো বাবুমহাল নেই বা সরকারিভাবে ঘাট ইজারা প্রদান করা হয়নি। ইজারার শর্তানুযায়ী ইজারাকৃত নির্দিষ্ট ঘাট ব্যতীত অন্য যে কোনো স্থানে বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ অবৈধ। অভিযোগ উঠেছে, সরকারি নিয়ম-নীতি না মেনে কতিপয় স্বার্থানেষী মহল প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির নাম ব্যবহার করে কপোতাক্ষর ভাঙনকবলিত স্থান ছাড়াও বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের পাশাপাশি তাদের নেতৃতে উপজেলার কপোতাক্ষ, শাকবাড়িয়া নদীর বিভিন্ন স্থানে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে। এমনকি উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে অবৈধ ড্রেজার মেশিন দিয়েও বালু তোলার অভিযোগ রয়েছে, যাতে করে হুমকির মুখে রয়েছে ফসলি জমি ও বসতঘর।

 

সরেজমিন দেখা যায়, প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির ছত্রছায়ায় কতিপয় ব্যক্তি কপোতাক্ষ নদী থেকে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে নদীর পাশে স্তূপ করে দেদার বিক্রি করছে। এলাকাবাসী প্রতিবাদ করলেই তাদের বলা হয় উপজেলা চেয়ারম্যানের বালু। এলাকাবাসীর অভিযোগ, অব্যাহতভাবে ভাঙনকবলিত স্থান থেকে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের কবলে পড়ে লঞ্চঘাটসংলগ্ন সদ্য নির্মিত পাউবোর বেড়িবাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। দীর্ঘদিন পন্টুনের সাথে যোগাযোগ রাস্তা না থাকায় আমাদের ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছিল লঞ্চে যাতায়াত করতে। এর আগে অনেকবার ভালু উত্তোলনের ফলে মদিনাবাদ লঞ্চঘাটের স্থান ভেঙে যায়। স্থানীয় এমপির প্রচেষ্টায় পন্টুনের সংযোগ রাস্তা হয়েছে কিন্তু সেটাও অবৈধ বালু উত্তোলের ফলে হুমকির মুখে। লঞ্চঘাটসংলগ্ন ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধের কাছে মজুদ করে বিক্রি করছে। ফলে ভাঙনকবলিত নগ্ন স্থান ওজনের চাপে ধসে যেতে পারে। উপজেলা সদরে এভাবে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও প্রকাশ্যে তা বিক্রি করায় জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। কেউ কেউ বলছেন, এত ক্ষমতার উৎস কোথায়। একদিকে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারাচ্ছে অপরদিকে নদীভাঙনসহ নানাবিধ ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে।

 

সরেজমিন গেলে মদিনাবাদ লঞ্চঘাটসংলগ্ন এলাকার বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দীর্ঘদিন যাবৎ এই ঘাটসংলগ্ন ভাঙনকবলিত এলাকা থেকে অব্যাহতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙনের আতঙ্কে আমরা দিনাতিপাত করছি। বারবার বলার পরও কিছু হচ্ছে না । পুলিশ প্রশাসন এসে বন্ধ করে যায় চলে যাওয়া পর আবার যা তাই। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, কোনো অশুভ শক্তির কারণে এটা বন্ধ হচ্ছে না। তাছাড়া উত্তোলনকৃত বালু নগ্ন বাঁধের ওপর স্তূপ করে রাখায় ওজনের চাপে বাঁধ যে কোনো মুহূর্তে ধসে যেতে পারে। এই মুহূর্তে অবৈধ বালু উত্তোলন বন্ধসহ স্তূপীকৃত বালু সরানো জরুরি।

 

কয়রা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অনিমেষ বিশ্বাস বলেন, মদিনাবাদ থেকে বালু উত্তোলনের অভিযোগ পাওয়ার পরই তা বন্ধ করে দেয়া হয়েছে। আবার যদি কেউ বালু তোলে তাহলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী (বালুদস্যু) কাউকে ছাড় দেয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News