মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০৩:০১ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

কক্সবাজার সদর হাসপাতালে চালু হচ্ছে আইসিউ : বসেছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট

  • আপডেট টাইম : রবিবার, ৭ জুন, ২০২০, ৭.৫৯ পিএম
  • ১৬৩ বার পঠিত

এম রায়হান চৌধুুরী,চকরিয়া প্রতিনিধি : কোভিড১৯ করোনাভাইরাস রুগিদের চিকিৎসা সেবায় ২৫০ ব্যাড়ের কক্সবাজার সদর হাসপাতালে ভেন্টিলেটর সহ আসন্ন ২০জুন থেকে ১০টি আইসিইউ (Intencive care unit) ও ১০টি এইসডিইউ (High dependency unit) চালু হতে যাচ্ছে। সেই সাথে দেশের প্রথম হাসপাতাল হিসাবে স্থাপিত হচ্ছে লিকুইড সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট।

জেলা সদর হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ডা; মো: মহিউদ্দিন গতকাল সন্ধ্যায় বলেন, ১০টি আইসিইউ ও ১০টি এইসডিইউ‘র নির্মাণ কাজ শেষ। ৪টি ভেন্টিলেটর হাসপাতালে চলে এসেছে এবং এসি বসে গেছে। ৮ জুনের মধ্যে ৬টি ভেন্টিলেটর,বেড ও যন্ত্রপাতি সংযুক্তির কাজ সম্পন্ করা হবে । আর এসব কিছুর জন্য ৪জন বিশেষজ্ঞ ডাক্তার,১০ জন ইমারজেন্সি মেডিকেল অফিসার,২০ জন ট্রেনিংপ্রাপ্ত নার্স এবং টেকনেশিয়ান প্রস্তুত রয়েছে।
এছাড়া দেশের প্রথম (জেলা হাসপাতালগুলোর মধ্যে) লিকুইড সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট নির্মাণ সম্পন্ন হলেই কক্সবাজার সদর হাসপাতালে আইসিইউ খোলা এখন সময়ের ব্যাপার মাত্র।
তিনি আরো জানান, লকডাউনের কারণেই আইসিইউ ও এইসডিইউ সরঞ্জামাদি আসতে সময় বেশি লেগেছে। যেহেতু জাতিসংঘের শরনার্থী সংস্থা ইউএনএইসচিআর এসব কিছুর ব্যবস্থা করছে তাই আমাদের করার কিছুই ছিল না। তিনি আরও জানান,আইসিইউ সহ অন্যান্য চিকিতসার জন্য দেশে প্রথমবারের মত কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে স্থাপন করা হচ্ছে সেন্ট্রাল অক্সিজেন প্ল্যান্ট যা ৮জুন হস্তান্তর হবে। জাতিসংঘের অপর সংস্থা ইউনিসেফ ৫৫ লক্ষ টাকায় এটি নির্মাণ করে দিচ্ছে। এরফলে সদর হাসপাতালে আরও কোন সময় অক্সিজেনের অভাব হবে না।
জেলা প্রশাসক মো: কামাল হোসেন, আরআরআরসি মাহবুব আলম তালুকদার,সিভিল সার্জন ডা. মাহবুবুর রহমান,ইউনিসেফের ডা. দেবাশীষ এবং বিভিন্ন দাতা সংস্থাদের নিয়ে বৈঠকে জেলায় আইসিইউ ও এইসডিইউ,পিসিআর মেশিন প্রয়েজনীয়তার ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়, বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং আইইডিসিআরকে লিখিতভাবে অবহিত করি। যার ফলশ্রুতিতে যাবতীয় সরঞ্জাম কক্সবাজার সদর হাসপাতালে এসে পৌঁচেছে। আশা করছি এর মাধ্যমে জেলাবাসী সুফল পাবে।
তিনি আরও জানান,ভবিষ্যতে জেলাবাসীর স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য ডায়ালেসিস যন্ত্রের ব্যবস্থার করার চেষ্টা চলছে। এদিকে কক্সবাজার জেলায় ২৪ ঘণ্টার ও কম সময়ে করোনাভাইরাস আক্রান্ত হয়ে এবং উপসর্গ নিয়ে পাঁচজন সহ জেলায় এ পর্যন্ত মারা গেছে ২২জনের অধিক।আর করোনাক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ১ হাজার। তবে চিকিৎসক ও মারা যাওয়া রোগীদের স্বজনরা অভিযোগ করে বলছেন, কক্সবাজারে করোনা রোগীদের চিকিৎসায় নির্ধারিত হাসপাতালগুলোতে আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা সুবিধা না থাকায় মুমূর্ষু রোগীদের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর সুবিধা থাকলে হয়ত অনেক করোনা রোগীর প্রাণ রক্ষা করা সম্ভব হতো।
শুক্রবার রাত আটটায় কক্সবাজার সদর হাসপাতালের করোনা আইসোলেশন ইউনিটে মারা গেছেন করোনা উপসর্গ নিয়ে ভর্তি হওয়া নারী রূপবান (৫০)। তিনি কলাতলী আদর্শ গ্রামের মোহাম্মদ কালুর স্ত্রী। আদর্শ গ্রাম সমাজ কমিটির সাধারণ সম্পাদক সাদ্দাম হোসেন জানান, শুক্রবার সকালে প্রচণ্ড শ্বাসকষ্ট ও জ্বর নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
জরুরি প্রয়োজনেও হাসপাতালে তাকে অক্সিজেন দেওয়া হয়নি। রূপবানের করোনা উপসর্গ দেখা গিয়েছিল এক সপ্তাহ আগেই। কিন্তু তিনি ও তার পরিবার প্রথমে এটা গোপন রাখে। শনিবার সকাল ১১টায় করোনা উপসর্গ নিয়ে জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার মাত্র দুই মিনিট পর শবে মেরাজ (৫০) নামে এক নারী।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার গবেষণা বলছে, কভিড-১৯ এ আক্রান্ত মোট রোগীর ৮০-৮২ শতাংশ সাধারণ চিকিৎসাতেই সুস্থ হয়ে ওঠেন। বাকি ১৮-২০ শতাংশ রোগীর চিকিৎসা নিতে হয় হাসপাতালে। এদের মধ্যে সর্বোচ্চ ১৫ শতাংশ রোগীর জন্য প্রয়োজন হতে পারে কৃত্রিম শ্বাসপ্রশ্বাস সুবিধা বা ভেন্টিলেটর। আর জটিল ৫ শতাংশের জন্য লাগতে পারে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News