বুধবার, ১৯ জানুয়ারী ২০২২, ০৫:৩৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শহীদ শেখ ফজলুল হক মণি আন্তঃউপজেলা ব্যাডমিন্টন টুর্নামেন্ট ২০২২ খুলনা বিভাগে করোনায় ৯ জনের মৃত্যু : শনাক্ত ১২৪ জন। কক্সবাজার সমুদ্র বুকে প্রথম রানওয়ে: দেশে প্রথম টেকনাফের চাঞ্চল্যকর ইসমত আরা হত্যাকান্ডের মামলা এখন হিমাগারে দীর্ঘ ৮০ বছর পর চন্দনাইশ মকবুলিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অভিভাবক নির্বাচন সম্পন্ন হয়, নিখোঁজ_সংবাদ….। টেকনাফে ২লাখ ৫০হাজার পিস ইয়াবাসহ ট্রলার জব্দ ধুনট উপজেলা আওয়ামীলীগের সংবাদ সম্মেলনে খন্দকার মোস্তাক অনুসারীদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবী ধুনটে গ্রেনেড হামলা দিবস উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত কক্সবাজারে ‘ওসির ভাব নিয়ে’ মামলা তদন্ত করেন এসআইয়ের স্বামী!

কক্সবাজারে ১০ কটেজে: গেইটে তালা ভিতরে বহু অপরাধ

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ৯ আগস্ট, ২০২১, ২.৪৭ পিএম
  • ৫৭ বার পঠিত

কক্সবাজারে ১০ কটেজে: গেইটে তালা ভিতরে বহু অপরাধ

 

ইঞ্জিনিয়ার হাফিজুর রহমান খান, কক্সবাজার:: চলমান কঠোর লকডাউনে কক্সবাজারের সব কটেজ ও হোটেল বন্ধ থাকলেও থেমে নেই কটেজ জোনের অপরাধ। চিহ্নিত ৮ থেকে ১০টি কটেজ গেইটে তালা লাগিয়ে ভিতরে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক, জুয়া ও পতিতার হাট। দীর্ঘদিন ধরে এই কটেজ জোনের অপরাধ থেমে নেই। কক্সবাজার জেলা পুলিশ ও ডিবি বেশ কয়েকবার অভিযান চালিয়েও তাদের অপরাধ থামাতে পারেনি। পুলিশের অভিযানের পরও এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত কয়েকজন মাদক কারবারি ও পতিতা ব্যবসায়ী। তাদের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মানবপাচার ও মাদক মামলাও। রয়েছে ওয়ারেন্টভূক্ত আসামীও। তবে কক্সবাজার জেলা পুলিশের এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, কটেজ জোনের বিষয়টি তাদের নজরদারীতে রয়েছে। মূল অপরাধী কারা তাদের চিহ্নিতও করা হচ্ছে। দ্রুত সময়ে এর ফলাফল পাওয়া যাবে।

 

কক্সবাজার সাংস্কৃতি কেন্দ্রের বিপরীত পাশে কটেজ জোনের ১০টি কটেজে জমজমাটভাবে চলছে মাদক, জুয়া ও পতিতা ব্যবসা। দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির ইন্ধনে সেখানে চলছে মাদক ব্যবসার জমজমাট আসর। অনেক কটেজ আগের নাম পরিবর্তন করে নতুন নাম দিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে অপরাধ কর্মকান্ড। সিন্ডিকেটটি অনেক সময় পুলিশ প্রশাসনের নাম ব্যবহার করে যাচ্ছে নিয়মিত। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, শাহেনা কটেজে মাদক ও পতিতা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে গোমাতলী এলাকার সোহেল ও টেকনাফের ইমরান। মোশেদা কটেজে নিয়মিত পতিতার হাট বসান নুর মোহাম্মদ। জুয়ার আসর ও মাদক বিকিকিনি চলে নিরিলা কটেজে। তা নিয়ন্ত্রণ করে লাইট হাউজ এলাকার সেলিম ও ফারুক। বুলু ওয়াটার কটেজেও নিয়মিত আড্ডা চলে পতিতাদের। তার নিয়ন্ত্রণ করে খরুলিয়ার কালাম। দারুল এহসান কটেজে খুচরা মাদককের হাট বসান পাহাড়তলী এলাকার আলোচিত মাদক কারবারি ভুলু (বন্দুকযুদ্ধে নিহত) এর শালা আলী আকবর, হাবিব ও শাহ আলম। শাকিল গেস্ট হাউজে পতিতা ও মাদকের আসর জমান জাহাঙ্গীর, আমীর ও বাবুর নেতৃত্বে। এসব কটেজে দীর্ঘদিন ধরে পতিতা ও মাদকের আস্তানা বানিয়েছে রমজান ও সিরাজ সওদাগর। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে মাদক ও পতিতা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে আমির ড্রীম, সী-টাউন, নিউ সবুজ, মিম রির্সোট, জাহান কটেজ ও এসএস রির্সোট (সাবেক শারমিন কটেজ) এর ভাড়াটিয়ারা। অনেক ক্ষেত্রে মালিক নিজেই এসব কটেজে স্বইচ্ছা মাদক ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এরিমধ্যে আমির ড্রীম কটেজে মাদক ও পতিতা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে লালদীঘির পাড়া এলাকার রোস্তম নামের একব্যক্তি। রোস্তম কক্সবাজার শহরের আলোচিত পতিতা ব্যবসায়ী। তার রয়েছে বেশ কয়েকটি মামলাও। তার নেতৃত্বে আমির ড্রীমে রয়েছে লাইট হাউজ এলাকার পান শাহিন ও ম্যানেজার বশর। কটেজ কক্ষে মাদকের হাট বসান পান শাহিন ও বশর। তাদের কটেজে রাখা হয় পতিতাও। চলমান কঠোর লকডাউনেও বন্ধ নেই তাদের এসব অপকর্ম। আমির ড্রীমে মাদক ব্যবসা ও পতিতার হাট বসানোর বিষয়ে ওই এলাকার সবাই অবগত রয়েছে। পান শাহিন ও বশর একনামে পরিচিত। স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তিকে তারা নিয়মিত মাসোহারা দিয়ে এসব অবৈধ ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে বলে জানা গেছে। এছাড়া সী-টাউন কটেজ ভাড়াটিয়া হিসেবে নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে লাইট হাউজ এলাকার সিরাজ সওদাগর ও রমজান। আমির ড্রীমের মতো সেখানেও বসে মাদকের হাট। মজুদ রাখা হয় পতিতাও। নিউ সবুজ কটেজে জুয়া ও মাদকের হাট বসে দীর্ঘদিন ধরে। কটেজ কক্ষে মাদক সেবনের আড্ডাও জমে নিয়মিত। নিউ সবুজ কটেজ নিয়ন্ত্রণ করে পাহাড়তলী এলাকার আলোচিত শীর্ষ ইয়াবা কারবারি ভুলুও (বন্দুকযুদ্ধে নিহত) স্বজন আলী আকবর ও নাছির। তাদের দুজনের বাড়িও পাহাড়তলী এলাকায়। তাদের বিরুদ্ধে ইয়াবা কারবারের অভিযোগ রয়েছে দীর্ঘদিন ধরে। নিউ সবুজ কটেজকে তারা নিরাপদ আস্তানা হিসেবে বেচে নিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। মেজর সিনহা হত্যাকান্ডের আগেও আলী আকবর ও নাছির পলাতক ছিল। বর্তমানে তারা জমজমাটভাবে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ও পতিতা ব্যবসা। তার কটেজ নিয়মিত অপরাধীদের আড্ডা ও আশ্রয়স্থল হিসেবে ব্যবহার হয়। নিউ সবুজ কটেজের ম্যানেজার হিসেবে রয়েছে লাইট হাউজ এলাকার কালা মান্নান। মান্নান এসব লেনদেন ও মজুদের হিসেব রাখে নিয়মিত। এসব অপরাধকান্ডের অভিযোগে বেশ কয়েকবার অভিযানও হয়েছিল নিউ সবুজ কটেজে। সীলগালাও করা হয়েছিল কটেজটি। কিন্তু অদৃশ্য কারণে কটেজটি চালু করে ফের চালিয়ে যাচ্ছে ইয়াবা কারবার ও পতিতা ব্যবসা। এসব অপরাধ থেকে পিছিয়ে নেয় মিম রির্সোট। কটেজটি চালান আব্বাস ও কালা জাহেদ। আব্বাসের বাড়ি গোমাতলী ও জাহেদের বাসা চট্টগ্রামের চন্দনাইশ এলাকায়। তারা দুজন লাইট হাউজ এলাকায় ভাড়া বাসায় থেকে কটেজে চালিয়ে যাচ্ছে মাদক ব্যবসা। সবচেয়ে বেশি পতিতা মজুদ রাখা হয় জাহান কটেজে। জাহান কটেজের বর্তমান ভাড়াটিয়া বাবু। চলমান কঠোর লকডাউনেও জাহান কটেজে রয়েছে পতিতাদের জমজমাট হাট। একটি কক্ষও খালী নেই জাহান কটেজের। প্রতি রুমে রাখা হয়েছে পতিতা। অপরাধ কর্মকান্ড চালিয়ে যাওয়া বেশ কয়েকটি কটেজ জাহান কটেজ থেকে নিয়মিত পতিতা সংগ্রহ করে বলে জানা গেছে। জাহান কটেজের বিষয়ে পুরো কটেজ জোনের মালিক-কর্মচারীরা অবগত রয়েছে। লাইট হাউজ এলাকার মাদক ও সন্ত্রাসী হিসেবে বেশ পরিচিত রয়েছে আমিন ও সাইফুলের নাম। তারা ওই এলাকার আলোচিত ডাকাত নিহত নুরুল ইসলামের দুই ছেলে। তাদের বিরুদ্ধে মাদক, ছিনতাই ও ডাকাতি মামলাও রয়েছে। আমিন ও সাইফুল এই দুই সহোদয় চালান এসএম রির্সোট নামে একটি কটেজ। রির্সোটটি আগে শারমিন কটেজ হিসেবে পরিচিত ছিল। নাম পরিবর্তন করে শারমিন কটেজ থেকে এসএম রির্সোট করা হয়। এই দুই মাদক কারবারি ও সন্ত্রাসীর নেতৃত্বে চলে এসএম রির্সোটে ইয়াবা ব্যবসা। নিয়মিত চলে পতিতা ব্যবসাও। শারমিন কটেজেও অপকর্মের দায়ে বহুবার অভিযান চালিয়েছিল পুলিশ প্রশাসন। অভিযানের পর ফের তারা মাদক ও পতিতা ব্যবসা চালিয়ে যায়। এছাড়া গেইটে তালা লাগিয়ে ভিতরে মাদক ও পতিতাদের আস্তানা গড়ে তুলেছে সী ফ্লাওয়ার গেষ্ট হাউজ ও ঢাকার বাড়ি কটেজ। জমজমাটভাবে চলছে তাদের অপরাধ কার্যক্রম। এলাকাবাসীর সূত্রে জানা গেছে, পুরো কটেজ জোনে এসব কটেজে নিয়ন্ত্রণ করা হয় মাদক ও পতিতা ব্যবসা। সবসময় জমজমাট থাকে এসব কটেজ। অপরাধীরাও এসব কটেজ নিজেদের আস্তানা হিসেবে ব্যবহার করে। নিয়মিত বসে মাদক সেবনের আড্ডাও। খায়রুল আমিন ও সাদেক ও রমজানের ইন্ধনে পুরো কটেজ জোনে চলে অপরাধ কর্মকান্ড। তারা নিয়মিত নেন মাসোহারাও। একসময় কাজী রাসেল নিয়ন্ত্রণ করত এসব কটেজ জোনের অপরাধ। বর্তমানে কাজী রাসেল এসব বিষয়ে রয়েছে চুপ। তার অবর্তমানে সাদেক, খায়রুল আমিন ও রমজানসহ কয়েকজন ব্যক্তি অঘোষিতভাবে এখন নিয়ন্ত্রণ করছে কটেজ জোনের অপরাধ। কটেজ জোনের নিয়ন্ত্রণকারী সিন্ডিকেটের সদস্যরা অনেক সময় পুলিশের সোর্স দাবী করে আদায় করে মাসোহারা। স্থানীয় একটি সূত্রে জানা গেছে, কটেজ জোনে মাদক ও পতিতা ব্যবসা নিয়ন্ত্রণ করছে চিহ্নিত অপরাধীরা। যাদের বিরুদ্ধে রয়েছে মাদক ও মানবপাচার মামলা। একসময় পুলিশের অভিযানে যারা আটক হয়ে মামলার আসামী হয়েছে তারাই এখন এসব অপরাধ নিয়ন্ত্রণ করে যাচ্ছে। পুলিশের কাছে তারা পলাতক হলেও কটেজ জোনের এসব কটেজে তাদের নিয়মিত আসা-যাওয়া। প্রতিটি কটেজে তাদের বিচরণ। এমনকি কটেজের বাইরের গেইটে তালা লাগিয়ে ভিতরে চালিয়ে যাচ্ছে এসব অপকর্ম।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News