শনিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৫:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে মাদকাসক্ত মুজিব, ইয়াবা কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ করে

  • আপডেট টাইম : বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০২১, ৫.৩৭ পিএম
  • ৫১ বার পঠিত

উখিয়া উপজেলা যুবলীগের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করছে মাদকাসক্ত মুজিব, ইয়াবা কারবারীদের নিয়ন্ত্রণ করে

 

 

ক্রাইম রিপোর্টার :

 

 

বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের ৪৮ বছরের গৌরবজ্জল ইতিহাসে যুবলীগ কিছু পথভ্রষ্ট নেতার কারণে তার গৌরব ও ঐতিহ্য হারাতে বসেছে। এই পথভ্রষ্ট নেতারা তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায়ে পর্যন্ত ছড়িয়ে ছিটিয়ে ঘাপটি মেরে বসে রয়েছে।

 

তাদেরই একজন উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ, নিজে মাদকাসক্ত। তার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে অসংখ্য মাদক কারবারি ও বিশেষ সখ্যতা।

 

প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে যুবলীগ দেশগড়ার আত্মনিয়োগের পাশাপাশি সকল অপশক্তি ও অত্যচারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করতে গিয়ে বারবার রাজপথে রক্ত ঝরিয়েছে। ১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্টের পরে বঙ্গবন্ধুর স্ব-পরিবারের হত্যার প্রতিবাদ আন্দোলনে এই যুবলীগ ছিল অপ্রতিরোধ্য। ৭৫ পরবর্তী সময়ে দেশের প্রতিটি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে অগ্রণী ভূমিকা পালন কারী এই যুবলীগ রাজপথে এখনো সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।

 

মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এরকম কিছু পথভ্রষ্ট নেতার বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে বলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় ২০১৯ সালের অক্টোবরে ক্যাসিনো সম্রাট ঢাকা দক্ষিণ যুবলীগের সভাপতি ইসমাঈল হোসেন চৌধুরী সম্রাটকে গ্রেফতার করে আইন শৃঙ্খলা বাহিনী এবং তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়। সরকার ও দলের এই পদক্ষেপ কে দেশের সবাই সাধুবাদ জানাই।

 

কক্সবাজার জেলায় ও রয়েছে যুবলীগের গৌরবময় ইতিহাস। কক্সবাজারের যুবলীগের সাবেক নেতারা আজ স্ব-স্ব ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত হয়ে দেশ ও জাতির সেবা করছেন।পাশাপাশি বর্তমান নেতারা ও সেটার ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন।

 

অথচ সে জায়গায় উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদ একজন মাদকাসক্ত নেতা। এটা যুবলীগের জন্য অত্যন্ত লজ্জাজনক ও অপমানকর। এই পথভুলা নেতার কারণে এই উপজেলায় যুবলীগের প্রতি সাধারণ মানুষের মধ্যে ভ্রান্ত ধারণার জন্ম নিয়েছে। ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদের এমন কর্মকাণ্ডে আজ বিব্রত। তারা মনে করেন এই ধরনের পথভ্রষ্ট নেতা যুবলীগে থাকলে যুবলীগের সমস্ত অর্জন ম্লান হয়ে যাবে।

 

উখিয়া কলেজের প্রতিষ্ঠাতা অধ্যক্ষ ফজলুল করিম তার সম্পাদিত উখিয়া কলেজের ইতিকথা গ্রন্থের ৪৮ পৃষ্ঠায় মুজিবুল হক আজাদ কে একজন ইভটিজার ও দখলবাজ হিসেবে তুলে ধরেন। কলেজ প্রতিষ্ঠার পরে কলেজে পাঠদান শুরু হলে কলেজ শিক্ষকদের সাথে দুর্ব্যবহার এর কারণে সে সময় মুজিবুল হক আজাদের বিরুদ্ধে মামলা করার কথাও উল্লেখ করেন তিনি । নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ছাত্রলীগের সাবেক অনেক নেতারা দাবী করেন একসময়ের মাদ্রাসা ছাত্র মুজিবুল হক আজাদ ইসলামী ছাত্র শিবিরের কর্মী ছিলেন, তৎকালীন ছাত্র সংগঠক এক্স চেয়ারম্যানের সন্তান মরহুম নজরুল ইসলাম রনি প্রকাশ ডভাই ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আসার মাত্র কয়েক মাস আগে এই মুজিবকে ছাত্রলীগে সম্পৃক্ত করেন, যা সবাই জানে।

 

আওয়ামী রাজনীতির দীর্ঘ পথচলায় এই মুজিবুল হক আজাদ উখিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক ও সভাপতির পদে ও আসীন ছিলেন। অনেকের কাছে সে ত্যাগী নেতা হিসেবেও পরিচিত। আবার ইতিহাসের পাতায় সে একজন ইভটিজার ও দখলবাজ হিসেবে ও নাম লিখিয়েছেন। তার রাজনৈতিক জীবনের সুন্দর অবয়বের আড়ালে রয়েছে ক্যাসিনো সম্রাটের মত একটি কুৎসিত জীবন। যার প্রমাণ মাদক সেবন অবস্থায় আজকের এই ছবি।

 

শুধু তাই নয় তার শশুর বাড়ি মায়ানমার সংলগ্ন ঘুনধুম সীমান্তে হওয়ায় বিভিন্ন ইয়াবা কারবারিদের সাথে সখ্যতা, বিভিন্ন সময় আটক হওয়া ইয়াবা কারবারীদের ছাড়িয়ে নিতে কমিশন বাণিজ্য থেকে শুরু করে, অর্থের বিনিময়ে বিভিন্ন ওয়ার্ড ও ইউনিয়ন এবং উপজেলা কমিটির গুরুত্বপূর্ণ পদে ইয়াবা কারবারিদের আসীন করার ব্যাপারে তার বিরুদ্ধে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।

 

এ প্রসঙ্গে উখিয়া উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মুজিবুল হক আজাদের সাথে ফোনে ও মেসেঞ্জারে যোগাযোগ করা হলে তিনি ফিরতি কোন জবাব দেন নি।

 

যুবলীগ কেন্দ্রীয় কমিটির দপ্তর সম্পাদক মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান মাসুদ জানিয়েছেন যুবলীগের কোন নেতা মাদকাসক্ত ও মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে, তার প্রমাণ সহকারে কেন্দ্রীয় যুবলীগ বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

যুবলীগের চট্টগ্রাম বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক ও বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ জানিয়েছেন যুবলীগে কেউ মাদকের সাথে সংশ্লিষ্ট হলে অবশ্যই তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

 

ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতারা মনে করেন যুবলীগকে কলংকমুক্ত করতে হলে উখিয়া উপজেলা যুবলীগে এখনই শুদ্ধি অভিযান সময়ের দাবী।

 

এব্যাপারে জানতে চাইলে উখিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ আহমেদ সনজুর মোর্শেদ বলেন, দল কোন বিষয় নয়,মাদক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ ফেলে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News