মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর ২০২১, ০১:৫৮ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :

অবৈধ ভাবে চলছে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতাল অপারেশনের পর অন্ধ হতে বসেছে আরিফা খাতুন

  • আপডেট টাইম : সোমবার, ১৫ মার্চ, ২০২১, ৯.৪১ পিএম
  • ১৩৮ বার পঠিত

অবৈধ ভাবে চলছে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতাল

অপারেশনের পর অন্ধ হতে বসেছে আরিফা খাতুন

 

নিজস্ব প্রতিবেদক : কুষ্টিয়া ভেড়ামারায় অবৈধ ভাবে চলছে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতাল। সেই হাসপাতালে অপারেশনের পর অন্ধ হতে বসেছে ভেড়ামারা উপজেলার বড়িয়া গ্রামের আতাহার আলীর স্ত্রী আরিফা খাতুন(৬৫)‌।

 

আরিফা খাতুনের ছোট ছেলে গোলাম রসুল জানান, আমার মায়ের বয়স ৬৫ বছর। সে আমাকে বলে আমি চোখে কম দেখছি। তুমি আমাকে একটা ডাক্তার দেখাও। আমি আমার মাকে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি কুষ্টিয়া দৃষ্টি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারে নিয়ে ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হকের কাছে দেখায়। তিনি আমার মায়ের কয়েকটি পরিক্ষা করান। সেখানে প্রায় দুই হাজার টাকা খরচ হয়। রিপোর্ট পাওয়ার পর ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হক অপারেশনের কথা বলেন। এতে তিনি ২২ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ৪ হাজার টাকা কম নেবেন বলে জানান। এরপর আমার বাবা তার এক বন্ধুর মাধ্যমে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতালে কথা বললে তিনি বলেন ৮হাজার টাকার বিনিময়ে এই অপারেশন একই ডাক্তার (ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হক) দিয়ে করিয়ে দেবেন। পরে ১২ মার্চ আমার মাকে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতালে নিয়ে অপারেশন করে ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হক। এই অপারেশনের পর আমার মা আর কিছুই দেখছে না।

 

এবিষয়ে ভেড়ামারা উপজেলার বড়িয়া গ্রামে আরিফা খাতুনের বাড়িতে গিয়ে তার সাথে কথা বললে তিনি জানান, আমি মনে হয় প্রতারণার শিকার হয়েছি। যেখানে এই ডাক্তার সর্বনিম্ন ১৮ হাজার টাকা চেয়েছিল সেখানে মাত্র ৮হাজার টাকা নিয়ে এই অপারেশন করেছেন। আমি ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতালে গেলে এই ডাক্তার আমাকে চিনে ফেলেন। এখন আমি আর কিছুই দেখতে পারছি না।

 

ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতালের তিন জন পরিচালক রয়েছে। তারা হলেন জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুল, মেহেদী হাসান ও মাজদার রহমান।

 

জাহাঙ্গীর হোসেন মুকুলের সাথে কথা বললে তিনি বলেন, ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতাল নাম বাহিরে থাকলেও আমরা সিভিল সার্জন অফিসে কাগজ জমা দিয়েছি ভেড়ামারা চক্ষু ক্লিনিক নামে। এখন পর্যন্ত কোন রেজিস্ট্রেশন নাম্বার পায়নি। তবে কাগজপত্র জমা দিয়ে ২০১৬ সাল থেকে এভাবে এই চক্ষু হাসপাতাল চালাচ্ছি। এখানে নিয়মিত কোন আবাসিক মেডিকেল অফিসার নেই। নেই ডিপ্লোমা ডিগ্রিধারি সেবিকা। এই হাসপাতালে ডাঃ কৌশিক আহম্মেদ সপ্তাহে ৫ দিন রোগী দেখেন। যদিও তিনি ঢাকা শাহ্ জালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের চিকিৎসক।

 

ডাঃ মোঃ মাহফুজুল হক এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমি কুষ্টিয়া দৃষ্টি চক্ষু হাসপাতাল ও ফ্যাকো সেন্টারে আরিফা খাতুন কে দেখেছিলাম। সেখানে ফ্যাকো করার জন্য ২২ হাজার টাকা হয় আমি রোগীর স্বজনদের অনুরোধে ৪ হাজার টাকা কমায়। তিনি আমাদের এখানে অপারেশন করেন নি। পরে ভেড়ামারা চক্ষু হাসপাতালে অপারেশন করেন। সেখানে ফ্যাকো করা হয়নি এই জন্য ৮ হাজার টাকায় অপারেশন সম্পন্ন হয়েছে।

 

এবিষয়ে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন ডাঃ আনোয়ারুল ইসলাম এর মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ভেড়ামারা কোন চক্ষু হাসপাতালের অনুমোদন নেই। অবৈধ ভাবে চলে থাকলে তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By ATM News