রবিবার, ০১ অগাস্ট ২০২১, ১০:৩১ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হওয়া মোহাম্মদ হোসাইন এর এতিম দু শিশুর জন্য পূণর্বাসন ফাউন্ডেশন গঠন ও সহায়তা প্রদান; চলাচলের অনুপযোগী দোয়ারাবাজারের লাফার্জ ক্যাম্পের সামনের সড়ক: বেড়েই চলছে জনদূর্ভোগ  ধুনটে কনস্টেবল জগদীশ চন্দ্রকে অবসরকালীন বিদায় জানালো থানা পুলিশ খুলনা বিভাগে করোনায় ১৯ জনের মৃৃত্যু টেকনাফে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক রোহিঙ্গা উদ্ধার টানা বৃষ্টিতেপ্লাবিত কয়রা উপজেলা। করোনায় খুলনা বিভাগে ২৪ ঘন্টায় ৩৪ জনের মৃৃত্যু। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধের 1 বছর একশত ১৫ দিন পার হলো বৃহস্পতিবার  বদরখালী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি ওসমান গণির আকষ্মিক মৃত্যুতে এমপি জাফর আলম বিএ অনার্স এম এ এর শোক চকরিয়ায় চলাচলের রাস্তা কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে রাখায় পথচারীদের হাঁটতে দারুণ ভোগান্তি 

অবিক্রীত পড়ে আছে গত বছরে উৎপাদিত লবণ, হতাশা নিয়ে লবণ উৎপাদনের কাজ শুরু করলেন বাঁশখালীর চাষীরা।

  • আপডেট টাইম : শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০, ৭.০৯ পিএম
  • ৮৬ বার পঠিত

অবিক্রীত পড়ে আছে গত বছরে উৎপাদিত লবণ

 

হতাশা নিয়ে লবণ উৎপাদনের কাজ শুরু করলেন বাঁশখালীর চাষীরা

 

রিপোর্টঃমোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন, দৈনিক এটিএম নিউজ বাঁশখালী:

 

অবিক্রীত অবস্থায় এখনো মাঠে পড়ে আছে গত বছরে উৎপাদিত লবণ। চাষাবাদ খরচের চেয়ে বিক্রয় মূল্য কম হওয়ায় চাষীরা মাঠে মজুদ করে রেখেছেন এসব লবণ। এরই মধ্যে এসে পড়লো লবণ উৎপাদনের মওসুম। গত বছরের লবণ বিক্রি না করেই লবণ উৎপাদনের কাজে নামতে অলসতা বোধ করছেন বাঁশখালীর চাষীরা। অনেকেই হতাশা নিয়ে ইতিমধ্যে লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেও গেছেন।

বাঁশখালী উপকূলে সবেমাত্র লবণ উৎপাদনের মওসুম শুরু হয়েছে। চিংড়ি ঘের গুঁটিয়ে বর্তমানে বাঁশখালী উপকূলের লবণ চাষীরা লবণ উৎপাদনে মাঠে নেমেছেন। লবণ চাষীরা দিনের পুরোটা সময় ব্যয় করছেন এখন লবণ উৎপাদনের কাজে। বাঁশখালীতে বিভিন্ন শিল্পগ্রুপ লবণের কারখানা স্থাপনে আগ্রহী হয়ে উঠেছে। তৎমধ্যে বেক্সিমকো গ্রুপ অন্যতম। তারা ছনুয়া ইউনিয়নের খুদুকখালী গ্রামে কয়েক শত একর জমি অধিগ্রহণ করেছে।

 

বিসিক সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া, চাম্বল ইউনিয়নের পশ্চিম চাম্বল ডেপুটি ঘোনা,গন্ডামারা ,সরলের সর্বত্র,পুঁইছড়ির পশ্চিম পুঁইছড়ি,সরলিয়া ঘোনা,শেখেরখীল ফাঁড়ির মুখ,শীলকূপের পশ্চিম মনকিচর এলাকায় প্রতিবছর প্রচুর পরিমাণে লবণ উৎপাদন হয়ে থাকে। প্রতিবছরের ন্যায় এবছরও এখানকার প্রায় কয়েক হাজার লবণ চাষী লবণ উৎপাদনের কাজে নেমেছেন। কিন্তু ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায় চাষীরা লবণ উৎপাদনে দিন দিন আগ্রহ হারাচ্ছে। এরপরও বাপ-দাদার পেশাকে বাঁচিয়ে রাখতে সকাল থেকে সন্ধা অবধি লবণ মাঠ নিয়ে ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন তারা। বিগত দিনের মত উপকূলের অনেক আবাদী জমি অনাবাদী হয়ে পড়ে আছে ন্যায্যমূল্য না পাওয়ায়।

অপরদিকে লবণের দাম কম হওয়ায় চাষীদের মুখে হাসির ঝলকও দেখা দিচ্ছে না। বলতে গেলে চাষিদের নিরব কান্নার সুর বয়ে যাচ্ছে। যদি শেষ পর্যন্ত এই অবস্থা অব্যাহত থাকে তাহলে বাঁশখালীর উপকূলীয় কয়েক সহস্রাধিক লবণ চাষী পরিশ্রমের সুফল না পেয়ে এবারও পথে বসবে। বর্তমানে সরকার লবণ চাষীদের স্বার্থ সুরক্ষার জন্য বিদেশ থেকে লবণ আমদানী বন্ধ করে দিলেও চাষীরা একটি সিন্ডিকেটের কারণে দাম পাচ্ছেন না।

 

বাঁশখালীতে উৎপাদিত লবণগুলো বিশেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সারাদেশে রপ্তানী করে থাকে। বিশেষ করে বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প কর্পোরেশন(বিসিক)বাঁশ­খালীর উপকূলীয় সরল এলাকায় তাদের নিজস্ব তদারকির মাধ্যমে লবণ উৎপাদন ও রপ্তানী করে থাকে।

 

বাঁশখালীর উপকূলীয় ছনুয়া ইউনিয়নের মধুখালী এলাকার লবণ চাষী কামাল হোছাইন এটিএম নিউজকে বলেন,’দাম কম হওয়ায় লবণ বিক্রি করে আমাদের সংসার চালাতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। সরকারের কাছে আমাদের দাবি, চাষিদের দুঃখ বিবেচনা করে লবণের দাম বাড়ানো হোক। লবণ চাষ বাঁশখালীর ৮০% মানুষের জীবিকার একমাত্র অবলম্বন।’

 

বাঁশখালীর সরল এলাকার বিশিষ্ট লবণ ব্যবসায়ী আনছুর আলী এটিএম নিউজকে বলেন ,’ আমার ২০০০ হাজার মণ লবণ অবিক্রিত পড়ে আছে। এখন প্রতিমণ লবণের দাম ১৯০ টাকা। এই দামে লবণ বিক্রি করলে পথে বসতে হবে।’

 

বাঁশখালীর বর্তমানে প্রায় লক্ষাধিক লবণ চাষী ন্যায্যমূল্য ও পরিশ্রমের যথাযথ মূল্য পাবে এই আশায় লবণ মাঠে রাতদিন পরিশ্রম করে যাচ্ছে। সরকার যদি বাঁশখালীর উপকূলে উৎপাদিত এসব লবণ দেশের সর্বত্র রপ্তানীতে সহযোগিতা করে তাহলে এখানকার লবণ চাষীরা আরো বেশি উপকৃত হবে এবং মানসম্মত লবণ উৎপাদনে আরো বেশি মনোযোগী হবেন এমনটি প্রত্যাশা ; বাঁশখালীর উপকূলীয় জনপদের চাষীদের।

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

doeltv38GRD5838
এই ওয়েবসাইটের লেখা ও ছবি অনুমতি ছাড়া কোথাও প্রকাশ করা সম্পূর্ণ বেআইনি।
Developed By BanglaHost